জাতিসংঘ নিযুক্ত মিয়ানমারের মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ দূত ইয়াংহি লি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন শুরুর ব্যাপারে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেছেন, নিকট ভবিষ্যতে রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টিতে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। গতকাল শুক্রবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
রোহিঙ্গা সংকট দেখতে ছয়দিনের সফরে গত ১৯ জানুয়ারি বাংলাদেশে আসেন ইয়াংহি লি। সফরকালে তিনি কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করেন। একইসঙ্গে তিনি ভাসানচর পরিদর্শন করেন। এ ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের পরিকল্পনা করছে সরকার। এ বিষয়ে ইয়াংহি লি বলেন, ভাসানচরে রোহিঙ্গাদের স্থানান্তরের ব্যাপারে তড়িঘড়ি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া উচিত হবে না। এ স্থানান্তরের বিষয়ে আরও আলাপ-আলোচনা এবং পর্যবেক্ষণ জরুরি। এ ছাড়া কক্সবাজারে অবস্থানরত রোহিঙ্গাদের ন্যূনতম মানবাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন।
গতকাল ঢাকা ছাড়ার আগে সংবাদ সম্মেলনে মিয়ানমারে জাতিগত সংঘাতের সার্বিক চিত্র তুলে ধরে ইয়াংহি লি বলেন, শুধু রাখাইন নয়, আরও কয়েকটি প্রদেশেও জাতিগত সংঘাত ক্রমেই ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে। মানবাধিকার কর্মী এবং স্বাধীন মত প্রকাশ করা সাংবাদিকরা ক্রমাগত সরকারের রোষানলে পড়ছে। এ অবস্থায় কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকটের জন্য মিয়ানমার দায়ী এবং রাখাইনে গণহত্যা হয়েছে, এটা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে পরিষ্কার। তাই রোহিঙ্গা সংকট এখন বৈশ্বিক ইস্যু এবং আন্তর্জাতিক উদ্যোগ ছাড়া এ সংকটের সমাধান সম্ভব নয়। সংকট সমাধানে মিয়ানমারের উপর আন্তর্জাতিক চাপ বৃদ্ধিরও বিকল্প নেই। তিনি রাখাইন গণহত্যার বিচারে এডহক বা অস্থায়ী ভিত্তিতে একটি আন্তর্জাতিক আদালত স্থাপন করা যেতে পারে বলেও অভিমত দেন।
চীন এবং রাশিয়া এ সংকটকে দ্বিপক্ষীয় সংকট উল্লেখ করে যে অবস্থান নিয়েছে, তার ফলে এ সংকট আরও দীর্ঘায়িত হচ্ছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ সংকট ঘিরে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা নিয়ে তিনি বারবারই প্রশ্ন তুলেছেন। ইয়াংহি লি রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে এ সংকট মোকাবিলায় আরও সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকার আহবান জানান।