পৃথিবীতে এমন অনেক শিশু আছে যারা পিতা-মাতা কিংবা অন্য মানুষের সংস্পর্শ ছাড়াই বন-জঙ্গলে সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে উঠছে। এক্ষেত্রে বন্যপ্রাণীদের সংস্পর্শে থেকেই বড় হচ্ছে এই শিশুগুলো এবং প্রাণীদের ভাষায় কথা বলছে ও তাদের আচার-আচরণগুলো আয়ত্ব করছে। এমনকি মানবিক গুণাবলী তাদের মাঝ থেকে সম্পূর্ণরুপে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
আপনাদের এমন কয়েকজন শিশুর সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিবো। যারা ছোটবেলায় পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন কিংবা হারিয়ে গিয়ে বন-জঙ্গলে প্রাণীদের সঙ্গে বেড়ে উঠেছে। পাঁচ পর্বের ধারাবাহিকে আজ থাকছে দ্বিতীয় পর্ব।
ছাগল বালক অ্যান্ডিস: পেরুর নাগরিক এই বালকের ডাকনাম ড্যানিয়েল। সে তার বাল্যকালের ৮ বছর মরুভূমিতে একদল ছাগলের সঙ্গে কাটিয়েছিল। এর প্রভাবে সে ছাগলের মতোই দুই হাত ও দুই পা মাটিতে ছুঁয়ে হাঁটতো। বালকটি ছাগলের দুধ ও খাবার খেতো এবং তাদের মতোই আচার-ব্যবহার করতো। এমনকি তাকে সেখান থেকে উদ্ধারের আগ পর্যন্ত মানুষের ভাষায় কথা বলতে পারতো না।
হরিণ বালক: ১৯৫০ এর দশকে তাকে সিরিয়ার একটি পরিত্যক্ত মরুভূমি থেকে খুঁজে পাওয়া যায়। হরিণের মতো অবিশ্বাস্য গতির কারণে তাকে সিরিয়ান হরিণ বালক নাম দেয়া হয়। সেখানে সে হরিণ ও অন্যান্য প্রাণীদের সঙ্গে বসবাস করে আসছিল। তার পেশী শক্তি ছিল অবিশ্বাস্যরকম। তাকে উদ্ধার করে আনার পর বহুবার সে পালাতে চেয়েছিল।
শামদেও: ভারতীয় নেকড়ে বালক শামদেওকে ১৯৭২ সালে একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়। সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র চার বছর। নেকড়েদের খেলার সঙ্গী ছিল এই শিশুটি এবং আচরণও করতো প্রাণীটির মতো। সে মুরগী শিকার করতো, নেকড়েদের সঙ্গে খাদ্যের জন্য প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হতো এবং রক্তের স্বাদ পেতে চাইতো। উদ্ধার করে আনার পর থেকে সে কথা বলতে পারেনি কোনোদিন। কেবল ইশারার মাধ্যমে যোগাযোগ করতো। ১৯৮৫ সালে তার মৃত্যু হয়।
ইত্তেফাক/টিএ