স্পোর্টস রিপোর্টার
প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের খেলার খসড়া ফিকশ্চার পাঠানো হয়েছে ক্লাবগুলোতে। ক্লাবগুলো খেলার জন্য প্রস্তুত হলে তাদের মধ্যে নতুন শঙ্কা দেখা দিয়েছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে। এই সময় দেশের সর্বত্র নির্বাচনী হওয়া। ক্লাবগুলোর অনেক কর্মকর্তা নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। রাজধানীর বাইরে যেসব ভেন্যুতে খেলা হবে সেই সব অঞ্চলও নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। তার চেয়েও বড় কথা হচ্ছে রাজধানীর বাইরের ভেন্যুগুলোতে নিরাপত্তা পাওয়া যাবে কিনা। যেসব দল ঢাকা হতে বাইরের ভেন্যুতে খেলতে যাবে তারা পথে বাধাগ্রস্ত হবে কিনা তা নিয়েও ক্লাব কর্মকর্তাদের মধ্যে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের নবাগত দল নোফেল ক্লাবের কর্মকর্তা শাখাওয়াত হোসেন ভুঁইয়া শাহীন জানালেন তারা নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে শঙ্কিত। চার দিকে নির্বাচনী তোড়জোড়। সংশ্লিষ্ট প্রশাসন নির্বাচনী বিষয়গুলো নিয়ে ব্যস্ত। পুলিশ প্রশাসন ব্যস্ত। এই পরিস্থিতিতে ফুটবল খেলার জন্য ক্লাবগুলোকে নিরাপত্তা দিতে পারবে কিনা তা নিয়ে যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে তা উড়িয়ে দেয়া যায় না বলে জানিয়েছেন তিনি। নোফেল ক্লাবের এই কর্মকর্তার দাবি তারা নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত হতে চান। শাহীন বলেন, ‘১৮ নভেম্বর লিগ কমিটির সভা রয়েছে। সেদিন লিগ শুরু করার বিষয়ে আলোচনা হবে। তবে আমরা ক্লাবগুলোর পক্ষ হতে নিরাপত্তার বিষয়টি উত্থাপন করব। কারণ রাজধানীর বাইরে যেসব ক্লাব খেলতে যাবে তাদের নিরাপত্তার বিষয়টি কতটুকু নিশ্চিত হয়েছে। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সাহেব (আব্দুস সালাম মুর্শেদী) ভেন্যুগুলোর জেলা প্রশাসকের সঙ্গে কথা বলেছেন কিনা। সালাম ভাই নিজেই নির্বাচন নিয়ে ব্যস্ত। আমরা ক্লাবগুলো কথা বলেছি। লিগ কমিটির মিটিংয়ে কথা বলব।’
উত্কণ্ঠায় আছেন ব্রাদার্স ইউনিয়নের ফুটবল কর্মকর্তা আমের খান। নির্বাচনের ডামাঢোলের মধ্যে ঢাকার বাইরের ভেন্যুগুলোতে কিভাবে খেলা হবে তা নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে এই কর্মকর্তার মধ্যে। ৩০ নভেম্বর প্রিমিয়ার ফুটবল লিগের শুরু হবে। এক সঙ্গে তিন ভেন্যুতে খেলা হবে। ঢাকার বাইরে ৭টি ভেন্যু রয়েছে। সেখানেও পালাক্রমে খেলা হবে। নিজের ক্লাব নিয়ে আমের খানের দুশ্চিন্তা নেই। ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচনের আগ পর্যন্ত ব্রাদার্সের চারটি ঢাকায়। তার দুশ্চিন্তা অন্য ক্লাবগুলোকে নিয়ে, যারা রাজধানীর বাইরে খেলতে যাবেন। আমের খান বললেন, ‘ঢাকা হতে দুইটা দল খেলতে যাবে। সেখানকার প্রশাসন কি আমাদের খেলা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে নাকি। ভেন্যুতে পুলিশ আসতে পারবে কিনা নিশ্চয়তা কি। আমার কাছে মনে হচ্ছে সমস্যা হতে পারে। কারণ পুলিশ ব্যস্ত থাকবে নির্বাচনী সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে। তা ছাড়া যেসব ক্লাব প্রিমিয়ার লিগে খেলছে তাদের বেশির ভাগই রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত।’ আমের আক্ষেপ করে বললেন লিগ কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আমাদেরকে মিটিংয়ে ডাকে। দরকার কি। লিগ কমিটির চেয়ারম্যান সালাম মুর্শেদী কিংবা বাফুফের সাধারণ সম্পাদক আবু নাইম সোহাগকে ফোনে পাওয়া যায়নি।