আঙ্কারাস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস এবং তুরস্কের পরিকল্পিত অর্থনৈতিক এলাকা ইকিতিল্লি শিল্পাঞ্চল কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে ‘বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত এ সেমিনারে তুরস্কের ৫৪টি কোম্পানির প্রতিনিধিরা অংশগ্রহণ করেন। তারা অবকাঠামো নির্মাণ, জ্বালানী, তথ্য প্রযুক্তিখাত হতে শুরু করে আমদানি রফতানি সাথে সম্পর্কিত বিভিন্ন ব্যবসায় নিয়োজিত রয়েছেন।
তুরস্কে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত এম. আল্লামা সিদ্দীকী তার উপস্থাপনায় স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠা এবং তার পিছনে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের অবিসংবাদিত ভূমিকা সম্পর্কে আলোকপাত করেন। রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের ভৌগলিক কৌশলগত গুরুত্ব, সাম্প্রতিক সময়ের আর্থ-সামাজিক অর্জন এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের স্বীকৃতি সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেন।
তিনি বাংলাদেশ ও তুরস্কের মাঝে বিদ্যমান উষ্ণ সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে বাণিজ্যিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের জন্য উভয় পক্ষের ব্যবসায়ীদের প্রতি আহ্বান জানান।
বাংলাদেশের চলমান উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সম্পৃক্ত হয়ে বিদ্যমান বাণিজ্য বান্ধব পরিবেশের সুযোগ নেওয়ার জন্য তিনি তুর্কি ব্যবসায়ীদের আহ্বান জানান।
আরো পড়ুন: ‘আমাদের নবীজি ঘুষ-দুর্নীতি পছন্দ করতেন না’
এছাড়া, ইস্তাম্বুলে নিযুক্ত কনসাল জেনারেল ড. মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম তার প্রারম্ভিক বক্তব্যে অন্যান্য উদীয়মান অর্থনীতির সাথে বিনিয়োগ-সুবিধা ও প্রণোদনার আলোকে বাংলাদেশের অগ্রগামিতার কথা তুলে ধরেন। তিনি দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্ভাবনার খাতগুলো চিহ্নিত করেন।
ইকিতিল্লি পরিকল্পিত শিল্পাঞ্চলের সভাপতি হাসান তুন্জ শিল্পাঞ্চলের সক্ষমতা ও গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন। তিনি শিগগিরই একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ দল সাথে নিয়ে বাংলাদেশ সফরের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেন। এ উদ্দেশ্যে সংগঠিত হওয়ার জন্য তার সদস্যেদের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশে প্রত্যক্ষভাবে ব্যবসার সাথে জড়িত দুজন তুর্কী ব্যবসায়ী তাদের অর্জিত ইতিবাচক অভিজ্ঞতা সকলের সামনে তুলে ধরেন। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, অর্থনৈতিক অগ্রসরমানতা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বিষয়ে ৩টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
ইত্তেফাক/বিএএফ