১৯৭১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক (১৮ মার্চ)

সাহসী সাংবাদিকতার পথিকৃৎ তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়ার সম্পাদনায় ১৯৫৩ সালের ২৪ ডিসেম্বর দৈনিক হিসেবে যাত্রা শুরুর পর থেকে ইত্তেফাক হয়ে ওঠে গণমানুষের মুখপত্র।  বাংলাদেশের স্বাধিকার আন্দোলনে অসামান্য ভূমিকা রেখেছিল পত্রিকাটি। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকে আপসহীনভাবে সত্য প্রকাশ করে গেছে ইত্তেফাক। পত্রিকাটির এই ভূমিকা উপমহাদেশের সংবাদপত্রের ইতিহাসের একটি উজ্জ্বল অধ্যায়।

স্বাধীনতার মাস অগ্নিঝরা মার্চে দৈনিক ইত্তেফাক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল। ১৯৭১ সালের ১৮ মার্চ প্রকাশিত দৈনিক ইত্তেফাকের প্রথম পাতার মূল খবরের শিরোনাম করা হয়, ‘লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকিবে’। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বক্তব্য এটি। পাকিস্তানের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জেনারেল আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ দ্বিতীয় দফা বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আলোচনা শেষ হয়ে যায়নি। লক্ষ্য অর্জিত না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।’

ঢাকার প্রেসিডেন্ট ভবনে রুদ্ধদ্বারকক্ষে ১৯৭১ সালের ১৭ মার্চ সকাল ১০টায় ইয়াহিয়া ও শেখ মুজিবের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়। সেখানে তখন তৃতীয় কোনো ব্যক্তি ছিল না। প্রায় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক শেষে বেরিয়ে আসা বঙ্গবন্ধুকে গম্ভীর দেখাচ্ছিল। বাইরে তখন বিপুলসংখ্যক সাংবাদিক ও আলোকচিত্রী তাকে ঘিরে ধরেন। 

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বঙ্গবন্ধু বলেন, ‘আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। এর চেয়ে বেশি আর কিছু বলার নেই। আরও আলোচনা হতে পারে। তবে পরবর্তী বৈঠকের সময় এখনও ঠিক হয় নাই। সেটা আজও হতে পারে, আগামীকালও হতে পারে।’ তবে আলোচনা ফলপ্রসূ হচ্ছে কিনা সেই বিষয়ে মন্তব্য প্রকাশে বিরত থাকেন তিনি। 

প্রেসিডেন্ট ভবনের সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে সংক্ষিপ্ত আলাপ শেষে শেখ মুজিব নিজের বাসভবনে চলে যান। অতৃপ্ত সাংবাদিকরা তাকে অনুসরণ করে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতে হাজির হয়। সেখানে এক প্রশ্নের উত্তরে বঙ্গবন্ধু জানান, প্রেসিডেন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে আলোচনা হচ্ছে। বৈঠকে নিজের চার দফা পূর্ব শর্তের প্রসঙ্গে উঠেছে কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘যখন আমি আলোচনা করি, তখন আমার দাবির কথাও বলি।’

ইত্তেফাক/জেএইচ