নওগাঁর রাণীনগরে সরকারি রাস্তা পুকুরের জন্য পাড় বানিয়ে পুরাতন পুকুর খনন করার অভিযোগ উঠেছে। উপজেলার নিজামপুর গ্রামের সরকারি ওই রাস্তাটি পাড় বানিয়ে পুরাতন পুকুর পুনরায় খনন করছেন একই গ্রামের বিকাশ, বকুল, বিমল, রতুল, সুবল, যুগোল, মদন, আদম, তপন গংরা।
জানা গেছে, উপজেলার কাশিমপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের সরকারি পাকা রাস্তার ধারে তাদের প্রায় তিন বিঘার একটি পুরাতন পুকুর আছে। তাদের ওই পুকুরের কারণে গত বছর সরকারি রাস্তা ধসে যাওয়ায় ওই পুকুরের ধারে সরকারিভাবে রাস্তা রক্ষার্থে প্যালাসাইডিং এর কাজ করা হয়। হঠাৎ করে গত কয়েকদিন আগে থেকে ওই পুরাতন পুকুর পুনরায় খনন কাজ শুরু করা হয়েছে। সেখানে সরকারি রাস্তা পাড় বানিয়ে রাস্তা থেকে প্রায় ২৫ ফিট গভীর করে পুকুরটি খনন কাজ করা হচ্ছে।
স্থানীয়রা বলছেন, যেভাবে সরকারি রাস্তা পাড় বানিয়ে পুকুরটি পুনরায় খনন করা হচ্ছে এতে করে যেকোনো সময় বৃষ্টি হলে এবং পুকুরে পানি দিয়ে মাছ চাষ শুরু করা হলে পুকুরের প্যালাসাইডিং নষ্ট হয়ে রাস্তাটি পুকুরে বিলীন হয়ে যেতে পারে। সরকারি একমাত্র ওই রাস্তাটি দিয়ে কুবরাতলী, নিজামপুর, কোঁচপাড়া, দিঘীপাড়া, গোনাসহ ৫-৭টি গ্রামের মানুষের প্রতিনিয়ত চলাচল। তাই সরকারি রাস্তাটি রক্ষার স্বার্থে দ্রুত ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন স্থানীয়রা।
সরকারি রাস্তা পাড় বানিয়ে পুকুর পুনরায় খনন করার বিষয়ে জানতে চাইলে পুকুরের অংশীদার মালিক বিকাশ চন্দ্র বলেন, ‘আমি গ্রামে থাকি না বাহিরে ব্যবসা করি। আমাদের পুরাতন পুকুরটি সংস্কারের জন্য গুলবর নামে এক স্কেবেটর (ভেকু) ব্যবসায়ীকে কনট্রাক দিয়েছি। আপনারা সাংবাদিকরা ভেকু মালিকের সাথে কথা বলেন, বলে ফোনটি কেটে দেন তিনি।’
কনট্রাকে পুকুর খননকারী ভেকু ব্যবসায়ী গুলবরের কাছে জানতে চাইলে তিনি কোন উত্তর না দিয়েই সাংবাদিকদের সাথে অসদাচরণ করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মির্জা ইমাম উদ্দিন জানান, বিষয়টি আমার জানা ছিলো না। সবেমাত্র জানলাম। যদি কেউ সরকারি রাস্তা পুকুর পাড় বানিয়ে পুকুর খনন করে থাকে তাহলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ইত্তেফাক/এএএম