সিরাজগঞ্জে অপহরণের ১২ ঘণ্টা পর উদ্ধার হওয়া জয়া (১৭) নামে এক কিশোরী বাড়িতে ফিরেই আত্মহত্যা করেছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) বিকেলে শহরের মাহমুদপুর মহল্লা থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করে সদর থানা পুলিশ। জয়া শহরের মাহমুদপুর মহল্লার শরীফ শেখের মেয়ে।
নিহতের বাবা জানান, গত দুই বছর ধরে একই মহল্লার আব্দুল আজিজের বখাটে ছেলে জিম (১৬) বিভিন্ন সময়ে তার মেয়েকে উত্ত্যক্ত করতো। এ ব্যাপারে তার অভিভাবকদের কাছে বার বার অভিযোগ করা হলেও কোনো লাভ হয়নি।
বুধবার (১৭ মার্চ) বখাটেদের অত্যাচারে বাধ্য হয়ে জয়ার সঙ্গে এক আত্মীয়ের ছেলের বাগদান সম্পন্ন করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার (১৮ মার্চ) বিকেলে বাসার সামনে থেকে জিমসহ মাহমুদপুর মহল্লার মৃত শাহিনের ছেলে জীবন, ফনির ছেলে অন্তর, হানিফের ছেলে রুমন ও চর রায়পুর মহল্লার ছাত্তারের ছেলে কাইয়ুম স্কুলছাত্রীকে জোরপূর্বক মোটরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়।
এ ব্যাপারে তাৎক্ষণিক থানায় অভিযোগ করে জয়ার বাবা শরীফ শেখ। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একইদিন সন্ধ্যায় পুলিশ মনোরথ নামের একজনকে আটক করে থানায় নিয়ে আসেন। পরে গভীর রাতে আনছার নামের মাহমুদপুর মহল্লার এক ব্যক্তি জয়াকে থানায় পৌঁছে দেয়।
শুক্রবার (১৯ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে জয়াকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। বাসায় যাবার পর ঘরে ঢুকে দরজা বন্ধ করে দেয় সে। সেখানে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করে। পরে স্বজনরা দরজা ভেঙে ঘরে ঢুকে তার মরদেহ ফ্যানের সঙ্গে ঝুলতে দেখে পুলিশে খবর দেয়।
সিরাজগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বাহাউদ্দিন ফারুকী বলেন, বৃহস্পতিবার বিকেলে কিশোরী জয়াকে অপহরণের ব্যাপারে থানায় অভিযোগ করা হয়েছিল। রাতেই তাকে উদ্ধার করা হয়।
সিরাজগঞ্জ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সিগ্ধ আক্তার বলেন, আমরা মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। এ ব্যাপারে নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা করলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসজেড