স্পোর্টস ডেস্ক
অন্তর্বর্তীকালীন কোচ ওলে গুনার সোলসারের অধীনে দারুণ ‘গতি’তে ছুটে চলেছে ইংলিশ ক্লাব ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। দারুণ প্রতি আক্রমণের পসরা সাজিয়ে শুক্রবার এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে আর্সেনালকে ৩-১ গোলে হারিয়ে পরের পর্বে উঠে গেছে তারা। এই জয়ের ফলে দলের দায়িত্বে আসার প্রথম আটটি ম্যাচেই জয়লাভ করলেন সোলসার। দলের এমন জয়কে আর্সেনালের বিপক্ষে ইতিহাসের অন্যতম সেরা প্রতি আক্রমণের প্রদর্শনী হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন নরওয়েজিয়ান কোচ।
সাবেক কোচ হোসে মরিনহোর অতি রক্ষণাত্মক দর্শনে মানিয়ে নিতে ব্যর্থ হওয়ার ধুঁকছিল ইউনাইটেড। দলের বাজে পারফর্মেন্সের খেসারত দিয়ে মৌসুমের মাঝপথে চাকরি হারানোর পর ইউনাইটেডে তার শূন্যস্থান পূরণ করেন সোলসার। গুরু স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনের প্রতি আক্রমণ দর্শনে বিশ্বাসী সোলসারের অধীনেই যেন পুনর্জন্ম হলো রেড ডেভিলদের। তিনি দায়িত্বে আসার পর টানা অষ্টম জয়ের দেখা পেল ইউনাইটেড, যার শেষটি এলো এফএ কাপে আর্সেনালের বিপক্ষে। আর্সেনালের মাঠ এমিরেটসে ৩১ মিনিটে আর্সেনালেরই সাবেক খেলোয়াড় অ্যালেক্সিস সানচেজের গোলে এগিয়ে যাওয়া ইউনাইটেড এর দুই মিনিট পরেই জেসে লিংগার্ডের গোলে ব্যবধান বাড়ায়। বিরতির আগে পিয়েরে এমেরিক অবামেয়াংয়ের গোলে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দিয়েছিলো স্বাগতিকরা। কিন্তু ৮২ মিনিটে অ্যান্থনি মার্শিয়ালের গোলে সে সম্ভাবনা উড়িয়ে দেয় ইউনাইটেড।
ম্যাচজুড়ে প্রতি আক্রমণের পসরা সাজিয়ে বসেছিলো ইউনাইটেড। ম্যাচশেষে সোলসার জানালেন এটাই ম্যানইউর সেরাটা বের করে আনার শ্রেষ্ঠ প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, ‘আপনি যদি আর্সেনালের বিপক্ষে আমাদের খেলাগুলোর ইতিহাস দেখেন তবে দেখবেন এটাই সেরা প্রক্রিয়া। আমার মনে আছে ১৯৯৭ সালে এক ম্যাচে কর্নার ফেরানোর পর প্রতি আক্রমণে আমি একটি গোল করেছিলাম। শুরুটা হয়েছিলো গিগসি (রায়ান গিগস) থেকে, তার থেকে ক্যারেল পোবোরস্কি-অ্যান্ডি কোল হয়ে বলটা আমার কাছে এসেছিলো।’
২০০৯ উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে আর্সেনালের বিপক্ষে প্রতি আক্রমণ থেকে দারুণ একটি গোল করেছিলেন তত্কালীন রেড ডেভিল ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। এমন আক্রমণকে দলের ইতিহাস হিসেবে আখ্যা দিয়ে সোলসার বলেন,‘২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়ন্স লিগে গোলটার কথা সবাই জানে যাতে পার্ক জি-সুং, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, ওয়েইন রুনি সম্পৃক্ত ছিলো। ওয়াজ্জার (রুনি) এমন গোল আরও আছে, পার্কেরও আছে। তাই এটা বলা যায় এই প্রতি আক্রমণের ত্রাসটাই আর্সেনালের বিপক্ষে আমাদের ইতিহাস।’
ম্যাচে স্ট্রাইকার রোমেলু লুকাকুকে ডানে খেলিয়ে প্রতিপক্ষকে চমকে দিয়েছিলেন সোলসার। এই লুকাকুই ছিলেন প্রথমার্ধের দুই গোলের কারিগর। সোলসার বলেন, ‘এই জায়গায় বেলজিয়াম এবং এভারটনের হয়ে খেলেছে রম (লুকাকু)। এটা এমন একটা কৌশল যা আমরা ব্যবহার করতে পারি এবং আমরা জানি সে কেমন শক্তিশালী। সে বল ধরে রেখেছিলো এবং ফাঁকা জায়গায় দৌড়ে যাচ্ছিলো। অ্যালেক্সিসের গোলে তার পাসটা অসাধারণ ছিলো।’