গৌরীপুর (ময়মনসিংহ) সংবাদদাতা
আজ ২৭ জানুয়ারি গৌরীপুরে শহীদ হারুন দিবস। ১৯৬৯ সালের এই দিনে ছাত্রদের ১১ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে ময়মনসিংহের গৌরীপুর শহরে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে শহীদ হন গৌরীপুর কলেজের মেধাবী ছাত্র আজিজুল হক হারুন।
স্বাধীনতার ৪৮ বছর পরও হারুনকে রাষ্ট্রীয়ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়নি। তবে শহীদ হারুনের নামে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছে।
গৌরীপুর উপজেলায় প্রতি বছর ২৭ জানুয়ারি হারুনের মৃত্যুর দিনটিকে “হারুন দিবস” হিসেবে পালন করলেও কেউ তার পরিবার ও গ্রামের বাড়ির খবর নেয় না। প্রতি বছরের মতো এবারও গৌরীপুরে শহীদ হারুন স্মৃতি পরিষদ বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালনের প্রস্তুতি নিয়েছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে প্রভাত ফেরি, শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ, মিলাদ মাহফিল ও আলোচনা সভা।
শহীদ হারুনের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল উপজেলার চন্ডীপাশা ইউনিয়নের ছামারুল্লাহ্ গ্রামে। মিয়া বক্স সরকারের ছেলে হারুনেরা ছয় ভাই, তিন বোন। নান্দাইল-আঠারবাড়ি সড়কের পাশেই ‘৬৯ এ গণআন্দোলনে শহীদ আব্দুল আজিজ হারুন চিরনিদ্রায় আছেন। জরাজীর্ণ কবরটি এলাকার লোকজনের সহায়তায় কিছু ইট দিয়ে ঘেরাও করে রাখা হলেও এখন আর কেউ স্মরণ করে না।
শহীদ হারুনের ছোট ভাই শফিকুল আলম চাঁন মিয়া জানান, সে সময় তিনি স্থানীয় স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র ছিলেন। ভাইয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে গৌরীপুর গেলেও কোনো পরিচয় না দিয়ে খোঁজ নিয়ে জানতে পারে পুলিশ লাশ অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গেছে। তিন দিন পর ময়মনসিংহ থেকে মুচিলেখা দিয়ে ভাইয়ের লাশ নিয়ে নান্দাইলে আসেন এবং পুলিশি প্রহরায় লাশ দাফন করা হয়।
আরেক ভাই আব্দুর রাশিদ বলেন, আমার ভাইয়ের মৃত্যুর পরদিন ঢাকায় আসাদসহ আরো কয়েকজন পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায়। কিন্তু জাতীয়ভাবে আসাদের মৃত্যুর ঘটনাটি স্থান পেলেও আমার ভাইয়ের খবর কেউ রাখেনি।
গৌরীপুর কলেজে পড়া অবস্থায় হারুনের সহপাঠী নান্দাইলের কূলধূরুয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মো. ইছহাক আকন্দ জানান, হারুন ও তিনি গৌরীপুর উপজেলার ২নং ইউনিয়ন পরিষদের তত্কালীন চেয়ারম্যান মো. গুঞ্জর আলীর সহায়তায় ইউনিয়ন পরিষদের একটি কক্ষে বসবাস করতেন। হঠাত্ আন্দোলন শুরু হলে হারুন প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠে কলেজের শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার ডাক দেয়। ২৭ জানুয়ারি পুলিশের দেওয়া ১৪৪ ধারা ভেঙ্গে মিছিল করার সিদ্ধান্ত নেয় হারুন। তার এই সাহসী পদক্ষেপে অনেকে ভয় পেলেও সে মিছিলের সামনে থেকে নেতৃত্ব দেওয়ার অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।
নান্দাইল প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. ফজলুল হক ভুঁইয়া জানান, হারুনের লাশ গ্রামের বাড়িতে আনার পর হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে তিনিও দেখতে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিনেও হারুনের মৃত্যুর ঘটনাটি জাতীয়ভাবে স্বীকৃতি না পাওয়া খুবই দুঃখজনক ব্যাপার।