বাহারি পাটপণ্যে মুগ্ধ ক্রেতা-দর্শনার্থী

রফিকুল ইসলাম রবি

ঐতিহ্যের পাট নগর জীবনে ফিরছে বৈচিত্র্য নিয়ে। শেকড় আর আভিজাত্যের পণ্য হয়ে আকৃষ্ট করছে ক্রেতাদের। পাটের তৈরি শো-পিচ, শপিং ব্যাগ, হ্যান্ড ব্যাগ, পর্দা, টেবিল ম্যাট, ফ্লোর ম্যাট, মেয়েদের গহনা, ডায়েরি, ফটোফ্রেম, জুতা-স্যান্ডেল থেকে শুরু করে দোলনা, শাড়ি-কী নেই বাণিজ্য মেলায়। এসব পণ্য তৈরিতে পাটের সঙ্গে কখনো ব্যবহার করা হয়েছে রঙ-বেরঙের পুঁতি বা কাচ। আবার কখনো কখনো পোড়া মাটির আঁচড়ে পণ্যের মধ্যে এনেছে বৈচিত্র্য।

ক্রেতাদেরও এসব পণ্যের প্রতি আকর্ষণ বেড়েছে। ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় এর প্রতিফলন দেখা মিলবে। পণ্যের বাহারি রং আর নকশা মুগ্ধ করছে ক্রেতা-দর্শনার্থী। মেলায় ডজনখানেক স্টলে পাটের বাহারি পাট পণ্যের পসরা সাজানো হয়েছে। সাশ্রয়ী দামে ঐহিত্যের এ সকল পণ্য কিনতে পারায় ক্রেতারা যেমন খুশি তেমনি বেচা-কেনা নিয়েও দোকানিদের মুখে স্বস্তির হাসি।

মেলা ঘুরে দেখা যায়, পাটের তৈরি নানা হস্তশিল্পজাত পণ্যের সন্ধান করছেন ক্রেতা-দর্শনার্থীরা। পণ্যের দাম ও মানের যাচাই-বাছাই করে নিত্য ব্যবহার্য এসব পণ্য থেকে নিজেদের দরকার মতো পণ্যটি খুঁজে নিচ্ছেন। মেলায় যারা ঘোরাঘুরি করছে তারা একবার হলেও পাটের শতরঞ্জি, চট আর রঙিন কাপড় দিয়ে তৈরি ব্যাগ, রঙিন সব পাপোশ, বিছানার চাদর দেখার জন্য কৌতূহল নিয়ে স্টলে ঢুকছেন। এসব পণ্য বেশি আকৃষ্ট করছে নারীদের। বাহারি রং আর নকশার এই পণ্যগুলো নিখাদ পাটের আঁশ থেকে তৈরি। ঐতিহ্যের সঙ্গে আধুনিকতার মিশেলে তৈরি হচ্ছে ব্যাগ, ঘর সাজানোর শো-পিসসহ আরও অনেক পণ্য। এছাড়া পাটের তৈরি শাড়ি, ব্যাগ, জুতার নান্দনিকতায় মুগ্ধ ক্রেতা। এসব পণ্যের মধ্যে লেডিস ব্যাগের দাম ২৫০ থেকে ৪শ, স্কুলব্যাগ ৬শ থেকে ১২শ, জুয়েলারি বক্স দেড়শ থেকে ২শ, দোলনা ৪শ থেকে আড়াই হাজার আর জুতা-স্যান্ডেলের দাম পড়বে ২৫০ থেকে ৪শ টাকা পর্যন্ত।

বিক্রেতারা জানান, পাটের হস্তশিল্পের প্রতি ক্রেতাদের আকর্ষণ দিন দিন বাড়ছে। বাহারি রং আর হরেক নকশার এই পণ্যগুলো নিখাদ পাটের আঁশ থেকে তৈরি। যা হুট করে দেখেই হয়তো বোঝার উপায় নেই। যারা একবার ব্যবহার করেছেন, তারা বারবার কিনছেন।

বরাবরের মতো এবারও নানা ধরনের শতরঞ্জি নিয়ে এসেছে কারুপণ্য। ওই স্টলে কর্তব্যরত বিক্রেতারা জানান, পাটকে আরও জনপ্রিয় করতেই ব্যতিক্রমী এই প্যাভিলিয়ন করেছে কারুপণ্য কর্তৃপক্ষ। মেলায় বেচাকেনাও ভালো হচ্ছে। আমাদের পণ্য একবার যারা ব্যবহার করছেন, তারা পুনরায় আসছেন। বেচাবিক্রি বাড়াতে মেলায় ১০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মেলায় বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের (বিসিক) একটি প্যাভিলিয়ন রয়েছে। এই প্যাভিলিয়নেও পাওয়া যাচ্ছে নানা হস্তশিল্প পণ্য।