সারিয়াকান্দিতে কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে

অবৈধভাবে বালু উত্তোলন

আমিনুল ইসলাম হিরু, বগুড়া অফিস

যমুনা নদীতে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে ও ট্রাক ভর্তি করে ডাম্পিং এলাকার ভেতর থেকে বালু উত্তোলন করায় কয়েকশ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তীর সংরক্ষণ বাঁধ ঝুঁকিতে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র ক্ষমতাসীন দলের নাম ভাঙিয়ে দীর্ঘদিন যাবত্ তীর সংরক্ষণ কাজের স্পর্শকাতর, ডাম্পিং এলাকার ভেতর থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করে আসছে। দীর্ঘ ২ মাস যাবত্ এভাবে বালু উত্তোলন করে বিক্রি করা হলেও প্রশাসনের নজরে পড়ছে না।

মথুরাপাড়া বাজারের উজানে দেবডাঙ্গা ও ভাটিতে ধলিরকান্দি পয়েন্টে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজের ডাম্পিং এলাকার ভেতর থেকে ড্রেজার ও ট্রাক দিয়ে অবিরত বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে। দেবডাঙ্গা ও ধলিরকান্দি গ্রামের লোকজন জানান, আমাদের বাড়িঘর, জায়গা-জমি রাক্ষসী যমুনার ভাঙন থেকে রক্ষার জন্য সরকার কোটি টাকা ব্যয়ে নদী তীর রক্ষার কাজ করে। কিন্তু এভাবে বালু উত্তোলন চলতে থাকলে তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যাবে। ফলে আমাদের বাড়িঘর, ভিটামাটি, আবাদি জমি পুনরায় ভাঙনের মুখে পড়বে।

এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড অভিযোগ করলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ব্যবস্থা নিতে ইউএনওর কাছে লোক পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু দেখা পায়নি। তবে শিগগিরই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বগুড়া জেলা প্রশাসক ফয়েজ আহমেদ বলেন, বালুর পয়েন্টে মাঝে মধ্যে ভ্রাম্যমাণ অদালত পরিচালনা করা হয়ে থাকে। আবারো ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাউবো বগুড়া সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী তারিক আব্দুল্লা আল ফায়াজ বলেন, দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

উল্লেখ্য, যমুনার ভয়াবহ ভাঙন থেকে রক্ষাকল্পে গত বছর পানি উন্নয়ন বোর্ড সাড়ে তিনশ কোটি টাকা ব্যয়ে রৌহাদহ থেকে মথুরাপাড়া পর্যন্ত ৭ কিলোমিটার তীর রক্ষা কাজ বাস্তবায়ন করে।