আদালতের নথির ‘ভুলে’ অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ‘গোপন মামলার’ খবর

 

উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে করা মামলার তথ্য যুক্তরাষ্ট্র গোপন রেখেছে বলে মার্কিন আদালতের নতুন এক নথি দেখে ধারণা করা হচ্ছে। আদালতের ওই নথিতে বহিঃসমর্পণ ও গ্রেপ্তারের আগে ‘অ্যাসাঞ্জ’ নামের একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগের তথ্য প্রকাশ্যে না আনতে বিচারকের কাছে অনুরোধ করা হয়েছিল।

মার্কিন কৌঁসুলিরা বলছেন, নথিতে অভিযুক্তের বদলে ভুল করে অ্যাসাঞ্জের নাম ঢুকে গেছে। যে অভিযোগের বিষয়ে বিচারকের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে তার সঙ্গে অ্যাসাঞ্জের কোনো যোগসাজশ নেই বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স। উইকিলিকস বলছে, সম্ভবত একই প্রক্রিয়ায় অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে করা মামলার তথ্যও গোপন রাখতে অনুরোধ করা হয়েছিল। একই ধরনের আবেদন হওয়ায় সেই মামলার অনুরোধ থেকেই কথাগুলো ‘কাট-কপি পেস্ট’ হয়। যে কারণে অ্যাসাঞ্জের নামটিও থেকে যায়। কৌঁসুলিরা প্রায়ই একই ধরনের মামলার ক্ষেত্রে এ ধরনের ‘কাট-কপি পেস্টের’ আশ্রয় নেন। খবর বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের।

বৃহস্পতিবার রয়টার্সের দেখা আবেদনটি চলতি বছরের আগস্টে ভার্জিনিয়ার আলেক্সান্দ্রিয়ার আদালতে হয়েছিল। উইকিলিকস ও তার প্রতিষ্ঠাতার অপরাধ নিয়ে ভার্জিনিয়ার কৌঁসুলিরা যে দীর্ঘদিন ধরে অনুসন্ধান চালাচ্ছিলেন, মার্কিন কর্মকর্তারা তা আগেই স্বীকার করে নিয়েছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের লাখ লাখ সামরিক ও কূটনৈতিক নথি ফাঁস করে দিয়ে বিশ্বজুড়ে হইচই ফেলে দেওয়া ওয়েবসাইট উইকিলিকসের প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জ আগে থেকেই তার বিরুদ্ধে গোপন মামলা আছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন। সেই কারণেই জামিনের শর্ত ভঙ্গ করে ছয় বছর আগে তিনি লন্ডনের ইকুয়েডর দূতাবাসে আশ্রয় নেন।

ওই নথিতে বলা হয়েছে, ‘অ্যাসাঞ্জ’কে গ্রেপ্তার ও তার বহিঃসমর্পণ নিশ্চিত করতে তার বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকতেই হবে। তবে অভিযোগ, গ্রেপ্তারি পরোয়ানা এবং এ ধরনের প্রক্রিয়ার কথা ‘অ্যাসাঞ্জ’ গ্রেপ্তার হওয়ার আগ পর্যন্ত প্রকাশ্যে আনা যাবে না। সে কারণেই মামলার তথ্য গোপন রাখতে বিচারকের কাছে এ অনুরোধ। প্রাথমিকভাবে ‘গোপনীয়’ থাকলেও গত সপ্তাহে নথিটি  উন্মুক্ত করা হয় বলে বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে। কী কারণে এটি উন্মুক্ত হয়েছে তাত্ক্ষণিকভাবে তা স্পষ্ট হওয়া যায়নি।

গোপনীয় ওই নথিতে অ্যাসাঞ্জের নাম এলো কীভাবে, তা নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা কোনো মন্তব্য করেননি। অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে কী কী অভিযোগ আনা হয়েছে তাও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কৌঁসুলি কার্যালয়ের মুখপাত্র জশুয়া স্টুয়েভ বলেন, ‘আদালতের ওই নথিতে ভুল আছে। যে নাম থাকার কথা নথিতে থাকা নামটি সেটি নয়।’ উইকিলিকস প্রতিষ্ঠাতা অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে মামলার কথা গোপন রাখতে এ ধরনের কোনো আবেদন করা হয়েছে কিনা, সে সম্বন্ধে কিছু বলেননি তিনি।