গুম করার জন্য লাশ ছয় টুকরা করেন স্ত্রী

গাজীপুরের শ্রীপুরে স্বামী রফিকুল ইসলামকে (৩০) হত্যার পর লাশ গুম করার জন্য তা ছয় টুকরা করেন তার স্ত্রী জীবন্নাহার (২৫)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক জীবন্নাহার পুলিশের কাছে স্বামীকে হত্যার এই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে গাজীপুরের পুলিশ সুপার শামসুন্নাহার তার কার্যালয়ে এক প্রেস বিফিংয়ে এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, রফিকুল ইসলামের সাথে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার বিষমপুর গ্রামের চানমিয়ার দ্বিতীয় মেয়ে জীবন্নাহারের পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। তাদের মারিয়া আক্তার রোজা (৪) নামে একটি কন্যা সন্তান রয়েছে। রফিকুল আড়াই বছর ধরে শ্রীপুরের গড়গরিয়া মাস্টারবাড়ি গিলারচালা আব্দুল হাইয়ের বাড়িতে স্ত্রীসহ ভাড়া থেকে পৌর এলাকার ‘হাউ আর ইউ’ নামের কারখানায়  লোডার এবং জীবন্নাহার মেঘনা কম্কোজিট লিমিটেডে সুইং অপারেটর হিসেবে চাকুরি করতেন।

পুলিশ সুপার আরো বলেন, দীর্ঘদিন ধরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ চলছিল। এরই জেরে বৃহস্কতিবার ভোরে জীবন্নাহারকে চড়-থাপ্পড় মারেন তার স্বামী। পরে স্বামী বিছানায় শুয়ে পড়লে সুযোগ বুঝে জীবন্নাহার ইট দিয়ে তার মাথায় একাধিক আঘাত করেন। ইটের আঘাতে নিস্তেজ হয়ে যাবার পর তার গলায় গামছা পেঁচিয়ে হত্যা করেন জীবন্নাহার। এরপর হাত-পা বাকা করে লাশ ওয়ার্ডরোবের ভেতর রেখে কারখানার কাজে চলে যান। রাত ৮টা পর্যন্ত কারখানায় কাজ করে ঘরে ফিরে পাশের কক্ষে ভাড়া থাকা ছোট বোনের বাসায় খাওয়া-দাওয়া করেন। রাত ১০টার দিকে তিনি নিজের কক্ষে ফেরেন। ঘন্টাখানের পর স্বামীর লাশ ওয়ার্ডরোব থেকে বের করে বাথরুমে নিয়ে বটি দিয়ে পা, হাত, মাথা কেটে আলাদা করেন। পরে বস্তার ভেতর দেহ ঢুকিয়ে লুঙ্গি দিয়ে পেঁচিয়ে টেনে বাঁশ ঝাড়ে নিয়ে ফেলেন। আর পা দুটি টয়লেটের পাশে এবং মাথা ও হাত ময়লার ড্রামে লুকিয়ে রেখে নিজের  কক্ষে ফিরে রক্তমাখা জামা কাপড় ধুয়ে গোসল করে ফেলেন।

এসপি আরো জানান, লাশ উদ্ধারের পর তাত্ক্ষনিকভাবে রফিকুলের কক্ষ তল্লাশি করে রক্তমাখা বটি, ইট এবং ঘরের মেঝেতে এবং ওয়ার্ডরোবের ভিতর রক্তের দাগ দেখে জীবন্নাহারকে আটক করা হয়।

শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাবেদুল ইসলাম জানান, জীবন্নাহার জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন রফিকুল ৭/৮ হাজার টাকা এবং জীবন্নাহার ১৩/১৪ হাজার টাকা বেতন পেতেন। তাদের সন্তান রোজা থাকত জীবন্নাহারের মায়ের কাছে নেত্রকোনার গ্রামের বাড়িতে। জীবন্নাহার বেতনের টাকা তার মাকে দিয়ে দিতেন। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কলহের সৃষ্টি হয়। স্বামীর পুরো দেহ বহন করে গুম করতে পারবে না ভেবে লাশ টুকরো টুকুরো করেন ওই নারী।

তিনি আরো জানান, এই খুনের ঘটনায় রফিকুলের পিতা আ: লতিফ বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেছেন।

উল্লেখ, শুক্রবার বিকালে শ্রীপুর উপজেলার  গড়গড়িয়া মাস্টারবাড়ি গিলারচালা একটি বাঁশ ঝাড়ের ময়লার স্তুপে থাকা বস্তার ভেতর এবং আশপাশ এলাকা থেকে রফিকুল ইসলামের লাশের ৬ টুকরো উদ্ধার করে পুলিশ।