মাধব রায়, কথাসাহিত্যিক ও সহকারী অধ্যাপক , ব্লু বার্ড হাইস্কুল এন্ড কলেজ, সিলেট
কমলা বললেন-তা ঠিক, তবে ২০১৯ সালে অর্থনীতিতে স্বামী-স্ত্রী দুইজন মিলে গবেষণা করে অভিজিত্ বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায় ও স্ত্রী এস্থার ডুফলো নোবেল পুরষ্কার পেয়েছেন। স্বার্থক এদের সংসার জীবন।
এর আগে ২০১৪ সালে জন ও’কিফের সঙ্গে নরওয়ের মেব্রিট মোজেস এবং এডওয়ার্ড মোজেস দম্পতিও চিকিত্সাবিজ্ঞানে একত্রে নোবেল পুরস্কার পেয়েছিলেন। বললেন নীলকান্তবাবু, আরও কয়জন দম্পতি নোবেল পেয়েছিলেন।
রেখা বলল-বোঝলাম না বাবা, গল্প শুরু হলো ডিমের বয়স আর পৃথিবীর বয়স নির্ণয় এর পদ্ধতি দিয়ে, সেটা তো এখনও বলছো না।
বলছি। এর আগে আরও কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে। এর মধ্যে গড় আয়ু, অর্ধায়ু, তেজস্ক্রিয়তার সূত্র এগুলো।
সূত্র-টুত্র কমলার না-পছন্দ, তিনি বললেন আমি রান্না ঘরে যাচ্ছি।
চন্দ্রা বলল-গড় আয়ু তো হচ্ছে মানুষ যত বছর বাঁচে তার একটা গড়।
নীলকান্তবাবু বললেন-মোটামুটি এরকমই। তবে তেজস্ক্রিয়তার ক্ষেত্রে বিষয়টি হলো, যেহেতু তেজস্ক্রিয় পরমাণু ভেঙ্গে যায়, তাই এক একটি তেজস্ক্রিয় বস্তুখণ্ডের সবগুলো পরমাণুর জীবনের যোগফলকে পরমাণুর প্রারম্ভিক সংখ্যা দিয়ে ভাগ করলে গড় আয়ু পাওয়া যাবে।
আর অর্ধায়ু হচ্ছে গড় আয়ুর অর্ধেক, বলল কণিকা।
না, না, এরকম নয়। এক একটি তেজস্ক্রিয় পদার্থ ভেঙে ঠিক অর্ধেক হবার জন্য যতটুকু সময় প্রয়োজন, তা-ই হচ্ছে ঐ পদার্থের অর্ধায়ু।
এক কথাই তো, কণিকা বলল।
না এক কথা নয়, নীলকান্তবাবু বললেন। কারণ তেজস্ক্রিয় পরমাণুগুলো একই হারে ভাংতে থাকে না। এরা অন্য একটি নিয়ম মেনে চলে। ১৯০২ সালে বিজ্ঞানী রাদারফোর্ড ও বিজ্ঞানী সোডি পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখেন যে, যে কোনও মুহূর্তে তেজস্ক্রিয় পরমাণুর ভাঙনের হার ওই সময়ে উপস্থিত অক্ষত পরমাণুর সংখ্যার সমানুপাতিক। একে বলা হয় তেজস্ক্রিয়তার ক্ষয়সূত্র।
কিন্তু অর্ধায়ুটা তো বোঝা গেল না, বলল কণিকা। গড় আয়ুর অর্ধেকটাই তো অর্ধায়ু হবার কথা।
তাহলে উদাহরণ দিয়ে বলি, মনে করো ইউরেনিয়ামের অর্ধায়ু ৪৫০ কোটি বছর। তাহলে এক গ্রাম ইউরেনিয়াম ভেঙে অর্ধেক গ্রাম হতে সময় লাগবে ৪৫০ কোটি বছর। আবার আরও ৪৫০ কোটি বছর পরে সেই অর্ধেক গ্রাম ইউরেনিয়াম শূন্য হয়ে যাবে না। সেটি হবে অর্ধেক গ্রামের অর্ধেক, অর্থাত্ একগ্রামের চারভাগের এক ভাগ। আরও ৪৫০ কোটি বছর পরে হবে তার অর্ধেক, আট ভাগের এক ভাগ। এভাবে চলতেই থাকবে, শূন্য হতে অনেক সময় লাগবে।
ওরে বাবা, বলল বিন্দু।
আর তাই তো হিরোশিমা আর নাগাসাকিতে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় যে পারমাণবিক বোমা ফেলা হয়েছিল, তার প্রভাব এখনও নিঃশেষ হয়ে যায়নি। এখনও সেখানে বিকলাঙ্গ শিশুর জন্ম হচ্ছে।
এত বেশি অর্ধায়ুর মৌল ছাড়া অন্য মৌল নেই। যেগুলো কম সময়ে ভেঙে যাবে? চন্দ্রা প্রশ্ন করে। আছে, যেমন রেডিয়ামের অর্ধায়ু ১৬০০ বছর। এক গ্রাম রেডিয়াম ১৬০০ বছর পরে হাফ গ্রাম হবে। আরও ১৬০০ বছর পরে হবে এক গ্রামের এক চতুর্থাংশ। এভাবে ট্রিটিয়ামের অর্ধায়ু ১২.৫ বছর, রেডনের অর্ধায়ু মাত্র ৩.৮২ দিন।
কিন্তু তা দিয়ে পৃথিবীর বয়স কীভাবে মাপা যাবে? বলল আকাশ।
পরের অংশ আগামীকাল