কিবরিয়া হত্যা মামলার বিচারে ধীরগতি

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া হত্যাকাণ্ডের ১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে আজ। দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটক থেকে অবশেষে এ ঘটনায় দায়ের করা দুই মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কিন্তু সাক্ষ্য দিতে আদালতে সাক্ষীর হাজির না হওয়া, আসামিদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা থাকায় আদালতে হাজির না হতে পারাসহ বিভিন্ন জটিলতায় বিচার কাজে ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। এ অবস্থায় বিচার নিয়ে অনিশ্চয়তা ও হতাশা দেখা দিয়েছে নিহতদের পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে।

২০০৫ সালের ২৭ জানুয়ারি হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বৈদ্যের বাজারে স্থানীয় আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় যোগ দেন সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়া। সভা শেষে ফেরার সময় দুর্বৃত্তদের গ্রেনেড হামলায় তিনি ও তার ভাতিজা শাহ মঞ্জুর হুদাসহ ৫ জন নিহত হন। আহত হন জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সভাপতি এমপি অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহিরসহ ৪৩ জন। ওই ঘটনায় হত্যা এবং বিস্ফোরক আইনে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করা হয়। কিন্তু দফায় দফায় তদন্তের বেড়াজালে আটকে থেকে বিলম্বিত হয় মামলার বিচার কাজ।

২০১৪ সালের ১৩ নভেম্বর এ হত্যাকাণ্ডের সর্বশেষ চার্জশিট আদালতে জমা দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির সিনিয়র এএসপি মেহেরুন্নেছা পারুল। আসামি করা হয় সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, হবিগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র জি কে গউছ, বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক রাজনৈতিক সচিব হারিছ চৌধুরী, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুত্ফুজ্জামান বাবরসহ ৩২ জনকে।

২০১৫ সালের ২ জুন মামলাটি বিচারের জন্য সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণ করা হয়। এরপর থেকেই মামলার বিচার শুরু হয়েছে।

নিহত আবুল হোসেন, আব্দুর রহিম ও সিদ্দিক আলীর পরিবারের সদস্যরা মামলার বিচারকার্য বিলম্বিত হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন। তারা জানান, ১৪ বছরেও মামলার কোনো কিনারা না হওয়ায় হতাশা জন্মেছে। তবুও এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দেখতে চান তারা। সব জটিলতার অবসান ঘটিয়ে বিচার অনতিবিলম্বে সম্পন্ন করা হবে বলেও তারা আশা প্রকাশ করেন।

এ ঘটনায় আহত বর্তমান জেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট মো. আবু জাহির জানান, কখনও সাক্ষী আসছে না। আবার কখনও গুরুত্বপূর্ণ আসামিরা বিভিন্ন মামলার আসামি হওয়ায় ঠিকমতো আদালতে হাজির করা সম্ভব হয় না। ফলে বিচারে কিছুটা বিলম্ব হচ্ছে। যেহেতু ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার বিচার হয়েছে, সেহেতু এ হত্যাকাণ্ডেরও বিচার অবিলম্বেই সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মামলাগুলোর বাদী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুল মজিদ খান এমপি জানান, বিচারটি চলমান আছে। সবারই প্রত্যাশা বিচারটি দ্রুত সম্পন্ন হোক। কিন্তু আইনি জটিলতার কারণে এ বিচার দীর্ঘসূত্রিতায় রূপ পেয়েছে। ইতোমধ্যেই অনেকের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। বাকি সাক্ষীদের সাক্ষ্য নেওয়ার পর মামলার বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। আমি বিশ্বাস করি আওয়ামী লীগ সরকারের আমলেই কিবরিয়া হত্যার বিচার হবে।

মামলার আইনজীবী সিলেট দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট কিশোর কুমার কর জানান, এখনও পর্যন্ত ১৭১ জনের মধ্যে সাড়ে ৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। মামলার গুরুত্বপূর্ণ আসামিদের ঠিকমতো আদালতে হাজির করতে না পারায় সাক্ষ্য নেওয়া যাচ্ছে না। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি মামলার পরবর্তী তারিখ নির্ধারিত রয়েছে।

সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এএমএস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া জানান, তার বাবার ১৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে সকাল সাড়ে ৮টায় পরিবার পরিজন নিয়ে তিনি বাবার কবরে ফুল দেবেন। তিনি বলেন, শুনেছি সাড়ে ৩ বছর ধরে মামলার বিচার চলছে। কিন্তু একটি সুষ্ঠু তদন্তের উদ্যোগ কখনও নেওয়া হয়নি। এখন সুষ্ঠু তদন্ত না হলে সুষ্ঠু বিচার হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম। অতএব বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা আশাবাদী না।