দুবলারচরের অদূরে বঙ্গোপসাগরে ১০ জেলে অপহৃত

সুন্দরবনে আবার বনদস্যু গ্রুপের আবির্ভাব ঘটেছে। বনদস্যু মামা-ভাগ্নে বাহিনী দুবলারচরের অদূরে বঙ্গোপসাগরের মান্দারবাড়ীয়া উপকূলে জেলে বহরে হানা দিয়ে ১০ জেলেকে অপহরণ করেছে।

গত শুক্রবার (২৫ জানুয়ারি) দিবাগত গভীর রাতে এ অপহরণের ঘটনা ঘটে বলে খবর পাওয়া গেছে। অপহৃতদের বাড়ি বাগেরহাটের রামপালের বিভিন্ন এলাকায়। নতুন করে দস্যুদের আবির্ভাবে জেলেদের মাঝে আতংক দেখা দিয়েছে।

দুবলা ফিসারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মৎস্য ব্যবসায়ী মোঃ কামাল উদ্দিন আহমেদ দুবলারচর থেকে রবিবার ভোরে মুঠোফোনে জানান, ‘দুবলার আলোরকোলে শুটকি প্রক্রিয়াকরণের মৌসুমী জেলেরা শুক্রবার সকালে বঙ্গোপসাগরে মাছ শিকারে যায়। দিন শেষে গভীর রাতে মান্দারবাড়ীয়া উপকুলে সাগরে মাছ ধরছিল জেলেরা। এ সময় হঠাৎ করে একটি বোটে সশস্ত্র বনদস্যুরা এসে জেলেবহরে হানা দেয়। তারা প্রথমে ১৮টি মাছধরা বোট থেকে ১৮ জন মাঝি জেলেকে তাদের বোটে উঠিয়ে নেয়। পরে ৮ জনকে ছেড়ে দিয়ে ১০ জেলেকে নিয়ে সুন্দরবনের দিকে চলে যায়। দস্যুরা যাওয়ার সময় জেলেদের কাছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য মোবাইল নম্বর দিয়ে যায়।’

অপহৃত মাঝি-জেলেরা হলেন, রামপালের শ্রীফলতলা গ্রামের আতাউল শেখের পুত্র বাবু শেখ, বাকি শেখের পুত্র রাসেল শেখ, ফরহাদ শেখের পুত্র সালাম শেখ, পাচুরাম দাসের পুত্র তোলাকুমার দাস, রনবিজয়পুর গ্রামের ফারুক শেখের পুত্র রুবেল শেখ, বাশতলী গ্রামের হাবিবুল শেখের পুত্র রুবেল, বেতবুনিয়া গ্রামের কাইনে বিশ্বাসের পুত্র বাবু শেখ (নওমুসলিম), চন্দ্রাখালী গ্রামের রাজ্জাক সরদারের পুত্র রুহুল সরদার, গিলাতলা গ্রামের গাউস শেখের পুত্র আরিফ শেখ এবং বটিয়াঘাটার বুজবুজিয়া গ্রামের রহমান শেখের পুত্র আরাফাত শেখ।

সাগর থেকে আলোরকোলে ফিরে আসা জেলেদের বরাত দিয়ে কামাল উদ্দিন আহমেদ আরো জানান, ‘জেলেরা দস্যু প্রধানসহ ৩ জনকে চিনতে পেরেছে। মামা-ভাগ্নে গ্রুপ পরিচয় দেওয়া দস্যু প্রধান হচ্ছে রামপালের ঝনঝনিয়া চেয়ারম্যানের মোড় গ্রামের তোরাবের পুত্র আজর ও তার ভাগ্নে ওয়াহিদ শেখের পুত্র ইসমাইল শেখ এবং মীরা কুদ্দুসের পুত্র সোহরাফ। অপর দস্যুদের জেলেরা চিনতে পারেনি।’

সম্প্রতি সরকার সুন্দরবন ও সাগর এলাকা দস্যুমুক্ত ঘোষণা করেছিলো। আবার দস্যুরা মাথাচাড়া দেওয়ায় জেলে মৎস্যজীবিদের মাঝে আতংক ছড়িয়েছে বলে জানা গেছে।

আরও পড়ুনঃ অর্থমন্ত্রী : কর হার আর বাড়বে না

কোস্টগার্ড পশ্চিমজোন মোংলা অপারেশন অফিসার লেঃ মোঃ বায়েজিদ মুঠোফোনে বলেন, ‘জেলে অপহরণের কোন খবর তার জানা নেই। তবে গোয়েন্দা সূত্রে কয়েকদিন ধরে দস্যুদের আনাগোনার খবর শুনেছেন।

ইত্তেফাক/নূহু