উন্নয়ন একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। জীবনমান, অবকাঠামো এবং আর্থসামাজিক অবস্থার ইতিবাচক পরিবর্তন করা সময়সাপেক্ষ বিষয়। এখানে অর্থনীতির গতি এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা প্রভাব বিস্তার করে। বাংলাদেশের অর্থনীতি সম্ভাবনাময়। বিগত এক দশকে ক্রমাগতভাবে শক্তিশালী হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু বেড়েছে। সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত আইএমএফ-এর বৈশ্বিক অর্থনীতির প্রক্ষেপণ এবং তার ভিত্তিতে ব্লুমবার্গের বিশ্লেষণ বিষয়ক একটি প্রতিবেদনে অর্থনীতির এ ক্রমোন্নতির দিকটি উঠে এসেছে। বিশ্বের ১৮৮টি দেশের ওপর তৈরি সেই প্রতিবেদনে আইএমএফ বলেছে, চলতি ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশের জিডিপির প্রবৃদ্ধি হবে ৭ দশমিক ১ শতাংশ। আরো কয়েকটি বৈশ্বিক সংস্থার চোখেও বাংলাদেশের অর্থনীতির অনেক বড় সম্ভাবনা উঠে এসেছে। সম্প্রতি এইচএসবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ২০৩০ সাল নাগাদ যেসব দেশের আকার দ্রুত বাড়বে সেই তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান সবার ওপরে।
অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে এশিয়ার পরাশক্তি প্রতিবেশী ভারত, চীন, জাপান দ্রুত এগিয়ে চলেছে। সেইসঙ্গে বাংলাদেশের উন্নতিও ঘটছে দ্রুত গতিতে। দেশের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে উন্নয়ন কার্যক্রম তরান্বিত হয়। ভবিষ্যত্ বৈশ্বিক অর্থনীতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ব্লুমবার্গের এক বিশ্লেষণে বাংলাদেশের অর্থনীতির সম্ভাবনাময় দিকটি উঠে আসে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে নতুন চালিকাশক্তির মধ্যে ইরান, তুরস্ক, ইন্দোনেশিয়া ও বাংলাদেশ অন্যতম। ২০২২-২০২৩ সালে বৈশ্বিক জিডিপি প্রবৃদ্ধিতে সবচেয়ে বেশি ভূমিকা রাখবে চীন। এর পরই রয়েছে ভারত এবং ভারতের পর যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আরব, থাইল্যান্ড ও মালয়েশিয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের অবদান থাকবে ১ শতাংশ। এটি সত্যিই বাংলাদেশের জন্য গর্বের।
তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে মাঝারি আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ায় আমাদের দেশ নতুন এক সাফল্য স্পর্শ করেছে। দরিদ্র দেশের তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণ ঘটেছে। মাথাপিছু আয় বৃদ্ধি পেয়ে ১২ হাজার ৩৬৭ টাকা হয়েছে। এক বছরে ১৪৯ মার্কিন ডলার আয় বেড়েছে। বাংলাদেশের মোট দেশজ উত্পাদনের প্রবৃদ্ধি বেড়ে হয়েছে ৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মাথাপিছু আয় এবং প্রবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে পণ্য রফতানি। বেড়েছে রাজস্ব আদায়ের পরিমাণ। বেড়েছে রেমিট্যান্স প্রবাহ। অর্থাত্ উন্নতির সব কয়টি ক্ষেত্রেই আমরা এগিয়ে চলেছি। আমরাও করতে পারি তার সবচেয়ে বড় উদাহরণ হলো পদ্মা সেতু। বাইরের দেশ যখন মুখ ফিরিয়ে নিল তখনও বাংলাদেশ হাল ছাড়েনি। যারা এতদিন হবে না, সম্ভব না বলে মুখ ফিরিয়ে হাসছিল—তারা অবাক হয়ে লক্ষ করল যে কাজ শুরু হয়ে গেছে। যোগাযোগব্যবস্থায় অভূতপুর্ব উন্নতি সাধন হবে পদ্মা সেতুর কাজ শেষ হলে। আমরা আরো এগিয়ে যাব এটা নিশ্চিত। কিন্তু কেবল আর্থিক মুক্তি ঘটলেই সবকিছু হয় না। সামাজিক বিশৃঙ্খলা এই উন্নতির প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়ায়।
বাংলাদেশের প্রধান সম্পদ হচ্ছে জনশক্তি। এক্ষেত্রে চীন বড় একটি উদাহরণ। বিশাল জনশক্তি নিয়েও চীন আজ অর্থনীতি, সামরিকসহ সব দিক থেকে উন্নত। ভারত তার জনশক্তিকে কাজে লাগিয়ে এগিয়ে চলেছে। জনশক্তির সর্বোত্তম ব্যবহার করতে বাংলাদেশে দক্ষ জনশক্তি তৈরির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায়। শিক্ষিত বেকারদের অগ্রাধিকার দিয়ে প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। ফ্রিল্যান্সিং করেও আজকাল বহু যুব দেশের অর্থনীতিতে অবদান রাখছে। চাকরির আশায় না রেখে তাদের স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলা হলে দেশের অর্থনীতির অগ্রগতি তরান্বিত হবে।
পাবনা