চার ম্যাচ নিষিদ্ধ সরফরাজ

স্পোর্টস রিপোর্টার

ডারবানে অনুষ্ঠিত ওয়ানডে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকান অলরাউন্ডার অ্যান্ডিল ফেলুকওয়াওকে লক্ষ্য করে বর্ণবাদী মন্তব্য করার জের ধরে চারটি আন্তর্জাতিক ম্যাচে নিষিদ্ধ হয়েছেন পাকিস্তানের অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদ। গতকাল জোহানেসবার্গে চতুর্থ ওয়ানডে শুরু হওয়ার প্রায় আধা ঘণ্টা পর এই ঘোষণা দেয় আইসিসি। এর আগেই ম্যাচের টসের সময় নিশ্চিত হয়ে যাওয়া গেছে যে, নিষেধাজ্ঞার কারণে এই ম্যাচ খেলতে পারছেন না সরফরাজ। তার বদলে অধিনায়কত্ব করছেন শোয়েব মালিক।

শোয়েব মালিক টসে এসে বলেছেন, তিনি এই বিষয় নিয়ে মন্তব্য করতে চান না। তবে তাকে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে, এটুকু জানেন তিনি, ‘আমরা তাকে দলে চেয়েছিলাম। কিন্তু যা ঘটেছে... আমরা সবাই তো আসলে জানি যে, কী ঘটেছে। আমি এ নিয়ে আর মন্তব্য করতে চাই না। তারা (ম্যানেজমেন্ট) আমাকে একটা সুযোগ দিয়েছে। আমি আমার সর্বোচ্চটা করতে চাই এখানে।’

অন্য দিকে দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক ফাফ ডু প্লেসিস টসের পর কথা বলতে গিয়ে জানিয়ে দেন যে, সরফরাজকে চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে, ‘আমরা শুনেছি যে, সে চার ম্যাচের জন্য বাইরে চলে গেছে।’

এই নিষেধাজ্ঞার অর্থ হলো, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে শেষ দুই ওয়ানডে এবং তিন ম্যাচ সিরিজের প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি খেলতে পারছেন না পাকিস্তানের এই উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান। পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি দলে বাড়তি কোনো উইকেটরক্ষক ছিল না। সে ক্ষেত্রে ওয়ানডেতে গতকাল উইকেটরক্ষণ সামলানো মোহাম্মদ রিজওয়ানকে হয়তো টি-টোয়েন্টিতেও রেখে দেওয়া হবে।

আইসিসি এ সংক্রান্ত যে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, সরফরাজকে এই শাস্তি ছাড়াও একটা শিক্ষামূলক কার্যক্রমের ভেতর দিয়ে যেতে হবে, ‘সরফরাজকে এ ছাড়াও আইসিসির একটি শিক্ষামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতে হবে। যেখানে সে যে অপরাধ করেছে, সেই বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি সচেতনতা ও বোঝার ক্ষমতা তৈরি করার চেষ্টা করা হবে।’

ডারবান ওয়ানডেতে ফেলুকওয়াও যখন ব্যাট করছিলেন, তখন সরফরাজ এই কৃষ্ণাঙ্গ অলরাউন্ডারকে সরাসরি গায়ের রং উল্লেখ করে এবং মাকে সম্পৃক্ত করে একটি মন্তব্য করে বসেন। এই কথা স্ট্যাম্প মাইক্রোফোনে সারা দুনিয়া জুড়ে সম্প্রচারিত হয় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে।

এরপর সরফরাজ দুই দফা টুইটারে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর ফেলুকওয়াওয়ের কাছে সরাসরিও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। বারবারই বলেছেন, তিনি নির্দিষ্ট করে এই অলরাউন্ডারকে আক্রমণ করতে কথা বলেননি। সরফরাজ টুইটারে ক্ষমা চাওয়ার পর লিখেছিলেন, ‘আজ সকালে আমি অ্যান্ডিল ফেলুকওয়াওয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আর সে এতোটাই ভালো মানুষ যে, আমার ক্ষমাপ্রার্থনা মেনে নিয়েছে। আশা করি, দক্ষিণ আফ্রিকার লোকেরাও আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

পাশাপাশি দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ডু প্লেসিস বলেছিলেন, তারা সরফরাজকে ক্ষমা করে দিয়েছেন। আইসিসির প্রধান নির্বাহী ডেভ রিচার্ডসন বলেছেন, তারা শাস্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে এই ক্ষমা চাওয়াটাকে বিবেচনায় নিয়েছিলেন।