গোপালগঞ্জে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিনা) উদ্ভাবিত নতুন জাতের স্বল্প জীবনকাল সম্পন্ন বিনা ধান-১৬ আমন মৌসুমে উত্পাদনে নতুন রেকর্ড গড়েছে।
প্রতি হেক্টরে এ জাতের ধান ৬.৬৯ টন ফলেছে বলে সম্প্রতি কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতি গ্রামের কৃষক হুমায়ূন খন্দকারের জমিতে উত্পাদিত বিনা ধান-১৬ কেটে পরিমাপ করে মাঠ দিবস থেকে এ তথ্য জানানো হয়। গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্র আয়োজিত এ মাঠ দিবসে কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) ফরিদপুর অঞ্চলের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. মহিউদ্দিন, গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণের ডিডি সমীর কুমার গোস্বামী, জেলা বীজ প্রত্যয়ন কর্মকর্তা রমেশ চন্দ্র ব্রক্ষসহ আরো অনেকে এ সময় বক্তব্য রাখেন।
গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার পশ্চিম মাঝিগাতি গ্রামের কৃষক হুমায়ূন খোন্দকার বলেন, এ বছর আমি বিনা ১৬ জাতের ধান আবাদ করেছি। প্রচলিত আমনের তুলনায় এ ধান রেকর্ড পরিমাণ ফলন দিয়েছে। এ ধান প্রচলিত আমনের এক মাস আগে কাটা যায়। বাজারে ধানের দাম ভালো পাওয়া যায়। এ ধানের আবাদের পর সরিষা, কলাই বা মসুরের আবাদ করা যায়। আগে আমরা বছরে দুটি ফসল পেতাম। কিন্তু এ ধানের বদৌলতে একই জমিতে বছরে তিন ফসল ফলিয়ে ফসলের উত্পাদন বৃদ্ধি করতে পারবো। এতে লাভ হবে।
একই গ্রামের কৃষক খন্দকার সিদ্দিক বলেন, প্রচলিত জাতের ধান চাষে লাভ নেই। স্থানীয় আমনে রোগ বালাই দেখা দেয়। কিন্তু বিনা ধান-১৬ জাতে কোনো রোগ বালাই নেই। কারেন্ট পোকা আক্রমণ করে না। তাই কীটনাশক খরচ লাগে না। ধান হেলে বা ঝড়ে পড়ে না। অধিক ফলন দেয়। এ জাত চাষ করে আমরা লাভের মুখ দেখেছি।
গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শেফাউর রহমান বলেন, লাভজনক শস্য বিন্যাস উদ্ভাবন কর্মসূচির আওতায় গোপালগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের তত্ত্বাবধানে ও কৃষি সম্প্রসারণের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জে বিনা ধান-১৬ আবাদ করে কৃষক আমন মৌসুমে সব রেকর্ড ভঙ্গ করে হেক্টরে সর্বোচ্চ ৬.৬৯ টন ধান উত্পাদন করেছে। এটি দেশের সর্বোচ্চ ফলন। গত বছর এ ধান ৫.৯৭ টন ফলেছিলো। স্বল্প জীবনকালের এ ধান ক্ষেত থেকে কাটার পর কৃষক একই জমিতে আরো দুটি ফসল ফলাতে পারবেন।