সাগরিকায় গাড়ি পার্কিং নিয়ে ভোগান্তি

স্পোর্টস রিপোর্টার, চট্টগ্রাম অফিস

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী ক্রিকেট স্টেডিয়ামে গাড়ি পার্কিং সুবিধা না থাকায় খেলা দেখতে আসা দর্শকদের অশেষ ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

স্টেডিয়াম সংলগ্ন কাস্টমস একাডেমি মাঠে পার্কিং এলাকা থাকলেও সেখানে সাধারণ মানুষ গাড়ি রাখতে পারেন না। অথচ প্রতিটি টুর্নামেন্ট বা সিরিজ শুরুর আগে নগর পুলিশের পক্ষ থেকে ওই পার্কিং এলাকা ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়। কিন্তু পুলিশের এই নির্দেশনা এক ধরনের প্রহসন বলেই ভুক্তভোগী দর্শকরা অভিযোগ করেছেন। কারণ ওই মাঠে প্রবেশাধিকার শুধু বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের স্টিকারযুক্ত যানবাহনের জন্যই সীমাবদ্ধ। আমজনতার গাড়ি সেখানে অপাঙেক্তয়।

গাড়ি নিয়ে আসা দর্শকরা পুলিশের বাধার মুখে পড়েন স্টেডিয়াম থেকে এক কিলোমিটার দূরে বিটাক মোড়ে। সেখানকার চেক পোস্টে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা ‘সার্বিক নিরাপত্তার’ কথা বিবেচনা করে গাড়ি আর সামনের দিকে এগোতে দেন না। ফলে কাস্টমস একাডেমির পার্কিংয়ে যাওয়া দূরের কথা, পুলিশের তাড়া খেয়ে তড়িঘড়ি করে ফের শহরে ফিরে  যান অনেকে। পুলিশের এই নিয়মের কথা যেসব গাড়িওয়ালা দর্শকের জানা নেই তারা পড়েন বিপাকে। টিকিট কিনে খেলা দেখতে এসে আবার সুবোধ বালকের মতো বাড়ি ফিরে যেতে হয়। কেউ ড্রাইভারের জিম্মায় গাড়ি ছেড়ে দিয়ে পরিবার-পরিজন নিয়ে পায়ে হেঁটে স্টেডিয়ামে আসেন।

উল্লেখ্য, মূল শহর থেকে জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামের দূরত্ব প্রায় ৭ কিলোমিটার। শহর থেকে সাগরিকা মোড় পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের গণপরিবহন চলাচল করলেও সাগরিকা মোড় থেকে স্টেডিয়াম গেটে আসাটাই চরম কষ্টকর। প্রায় দেড় কিলোমিটার ওই রাস্তায় নেই কোনো গণপরিবহন। পায়ে হেঁটে বা রিকশা, অটোরিকশায় করে স্টেডিয়ামে আসতে হয়। খেলা দেখতে আসা দর্শকরাই শুধু নয়, সাগরিকা এলাকায় বিভিন্ন অফিস ও কলকারখানার যানবাহনকেও আর বিটাক মোড় অতিক্রম করতে দেয়া হয় না। খেলার দিন এলাকার হাজার হাজার মানুষকে একরকম অবরুদ্ধ জীবনযাপন করতে হয়। 

সিএমপির উপ-কমিশনার (ট্রাফিক-বন্দর) ফাতেহা ইয়াসমিন এ বিষয়ে ইত্তেফাককে বলেন, ‘খেলোয়াড় ও দর্শকদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখেই স্টেডিয়াম এলাকায় কোনো যানবাহন যেতে দেয়া হয় না। এমনকি ওই এলাকার কারো গাড়িও বিটাক মোড় অতিক্রম করতে পারে না। শুধু বিসিবির স্টিকারযুক্ত গাড়ি কাস্টমস একাডেমি মাঠে পার্কিং করতে পারে।’