ইত্তেফাক রিপোর্ট
বিশ্বে এবং বাংলাদেশেও গ্রাম উন্নয়নের বিভিন্ন মতবাদ ও মডেল রয়েছে। এই সমস্ত মতবাদ ও মডেলকে বিবেচনায় নিয়ে গ্রামীণ বৈশিষ্ট্যকে গুরুত্ব দিয়ে বাংলাদেশের উপযোগী গ্রাম উন্নয়ন নীতিমালা করার দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে বিজ্ঞজনেরা। তারা বলেন, এ কথা অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই যে, যদি যথেষ্ট সতর্কতা এবং দূরদৃষ্টি সম্পন্ন পরিকল্পনার আশ্রয় না নেওয়া হয় তাহলে আমরা বৈচিত্র্যপূর্ণ ইকো সিস্টেমসম্পন্ন গ্রামীণ জীবনব্যবস্থাকে যেমন হারাব তেমনিভাবে পরিবেশ বিপর্যয়ে সারাদেশ নিমজ্জিত হবে।
গতকাল রবিবার পরিবেশ বাঁচাও আন্দোলন (পবা) ও বারসিক-এর যৌথ উদ্যোগে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে ‘গ্রামীণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন ও গ্রাম উন্নয়ন নীতিমালা’-শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন। সেমিনারে জানানো হয়, সরকারের গ্রাম উন্নয়ন উদ্যোগকে জনপ্রিয় করার জন্য গ্রামে কর্মসংস্থান, চাষাবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদন, খেলাধুলা, জৈব কৃষি, রি-সাইকেল এনার্জি কিভাবে কাজে লাগাতে হবে এসব বিষয়ে আলোচনা সামনে আনার জন্য পবা ক্যাম্পেইন চালিয়ে যাবে। সরকারের উচিত নীতিমালার ভিত্তিতে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা।
পবা চেয়ারম্যান আবু নাসের খানের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক স্থপতি সজল চৌধুরী, সঞ্চালনা করেন পবার সম্পাদক ফেরদৌস আহমেদ উজ্জল। বক্তব্য রাখেন বুয়েটের স্থাপত্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ফরিদা নিলুফার, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন, ইষ্ট-ওয়েস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সেলিম রশিদ, পবার সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী মো: আবদুস সোবহান, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ডা: লেলিন চৌধুরী, বারসিকের সমন্বয়কারী সৈয়দ আলি বিশ্বাস, সহ-সমন্বয়কারী মো: জাহাঙ্গীর আলম, মার্শাল আর্ট ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান আতিক মোরশেদ, প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ, অ্যাডভোকেট মাহবুবুল আলম তাহিন, ক্যামেলিয়া চৌধুরী, মাহবুল আলম প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ অপেক্ষা আমাদেরকে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে গ্রামে যেসব সুযোগ-সুবিধার অভাব রয়েছে তা দূর করা। এক কথায় শহর ও গ্রামের মধ্যে সুযোগ সুবিধার বৈষম্য কমানো দরকার।
সেমিনারে বক্তারা কৃষিকে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া, গ্রামে কৃষিজাত পণ্য-দ্রব্য সঠিকভাবে সংরক্ষণের জন্য পর্যাপ্ত সংরক্ষণাগার করা, প্রান্তিক কৃষকের সমস্যাগুলো গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নিয়ে সেগুলো সমাধানের টেকসই পরিকল্পনার বাস্তবায়ন করা, পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার এবং কৃষিতে অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রতিটি গ্রামে কমপক্ষে একজন কৃষককে ‘আদর্শ চাষি সম্মানী’ প্রদান করা, একটি গ্রামে নির্দিষ্ট দূরত্ব পর পর নাগরিক প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে সুযোগ-সুবিধা এবং অবকাঠামো থাকা যেমন স্কুল, কলেজ, হাসপাতাল, পাঠাগার, খেলার মাঠ, ব্যায়ামাগার, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র ইত্যাদি। বাংলাদেশের গ্রামগুলোর আবাসন, অবকাঠামো এবং দূষণের ক্ষেত্রে পরিবেশগত উন্নয়নের চিন্তা এবং গবেষণার প্রয়োজনে স্থানীয় মেধাকে অগ্রাধিকার দিয়ে স্থানীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে কাজে লাগানোসহ গ্রামের হাসপাতালগুলোকে আধুনিকায়ন করা এবং গ্রামের শিক্ষাকে আনন্দদায়ক এবং মানসম্পন্ন করার সুপারিশ করা হয়।