চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী থেকে ৬ তরুণসহ একডজন প্রার্থী এবার এমপি হতে চান। ৬ তরুণের মধ্যে আওয়ামী লীগ হতে ৪ জন, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী হতে একজন করে রয়েছেন। এ আসনে এবার সম্ভাব্য প্রার্থীরা দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় গণসংযোগ ও বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান-অনুদান প্রদান দিয়ে ভোটারদের নজর কেড়েছেন। বর্তমান এমপি হাজী আলী আজগার টগর এবারও তৃতীয়বারের মতো দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনে লড়বেন এমনটিই প্রত্যাশা করছেন।
জীবননগর ও দামুড়হুদা উপজেলা এবং চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের তিতুদহ, বেগমপুর, গড়ইটুপি এবং নিহালপুর ইউনিয়নসহ ২০টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভা নিয়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসন। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি শিল্পপতি হাজী আলী আজগার টগর। গত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মহাজোটের প্রার্থী হয়ে তিনি ১ লাখ ১৮ হাজার ৩৮৫ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন ওয়ার্কাস পার্টির প্রার্থী শেখ সিরাজুল ইসলাম। ২০০৮ সালের নির্বাচনেও হাজী আলী আজগার টগর বিজয়ী হয়েছিলেন। এ আসনের ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার সংখ্যা ১ লাখ ৬৮ হাজার ৬৩০ জন ও নারী ভোটার ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭০ জন।
চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি বড় দুটি দলেই প্রকট দলীয় কোন্দল রয়েছে। গত প্রায় ২ বছর জুড়ে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনে ব্যাপক প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে আওয়ামী লীগের কর্মীদের চাঙ্গা করে রেখেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি তরুণ ব্যবসায়ী নজরুল মল্লিক এবং কেন্দ্রীয় যুবলীগের সহ-সম্পাদক ও দৈনিক আমার সংবাদের সম্পাদক হাশেম রেজা। এ ছাড়াও এ আসনে আওয়ামী লীগ থেকে মনোনয়ন পেতে বঙ্গবন্ধু শিশু কিশোর মঞ্চের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক আমাদের নতুন খবরের সম্পাদক সাদিকুর রহমান বকুল এবং দৈনিক সকালের সময়ের সম্পাদক নুর হাকিম গণসংযোগ করেছেন। এ আসনে শক্ত প্রার্থী হিসেবে বর্তমান সংসদ সদস্য আওয়ামী লীগের হাজী আলী আজগার টগর ও চুয়াডঙ্গা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক দামুড়হুদা উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান মঞ্জু এবং বিএনপি হতে রাইজিং গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এফবিআইসিসির সাবেক পরিচালক মাহমুদ হাসান খান বাবু ও কনটেক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ইঞ্জিনিয়ার মকলেছুর রহমান তরফদার টিপুর নাম শোনা যাচ্ছে। এছাড়াও জাতীয় পার্টি হতে দেলোয়ার হোসেন দুলু ও ওয়ার্কার্স পার্টির শেখ সিরাজুল ইসলাম এ আসনে মনোনয়ন চান। জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি রুহুল আমিন তিনিও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়তে পারেন। নাশকতার মামলায় বর্তমানে তিনি জেলে রয়েছেন।
আসন্ন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেতে সম্ভাব্য প্রার্থীরা বর্তমানে রাজধানী ঢাকাতে লবিং তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কার ভাগ্যে দলীয় মনোনয়ন জুটবে তা নিয়ে উভয় দলের নেতাকর্মীরা দারুণ উদ্বেগ-উত্কণ্ঠার মধ্যে রয়েছেন।