ভেনিজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সংকট বাড়ছে। সেনাবাহিনীর এক শীর্ষ কর্মকর্তা তার পক্ষ ত্যাগ করেছেন যিনি যুক্তরাষ্ট্রে দূত হিসেবে কাজ করেছিলেন। সেনা কর্মকর্তা কর্ণেল সিলভা বিরোধী নেতা গুয়াইদোকে সমর্থন দিয়ে নিজ দেশের জনগনের ওপর গুলি না চালাতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। খবর রয়টার্স ও আল-জাজিরা’র
মাদুরো মার্কিন কূটনীতিদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দেওয়ার পর সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন। মার্কিন স্বার্থ বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে মাদুরোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী তিন ইইউ দেশের আল্টিমেটাম প্রত্যাখান করেছেন। এদিকে চাপের মুখে গুয়াইদো মাদুরোর দলের এমপির সঙ্গে গোপন বৈঠকের কথা স্বীকার করেছেন। মাদুরো গুয়াইদোকে মার্কিন পুতুল বলে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে জাতিসংঘ সহিংসতা ছেড়ে সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে। সংলাপের মাধ্যমে সমাধানে পৌঁছানোর আহবান জানিয়েছেন জাতিসংঘের রাজনীতি বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি।
জনগনের ওপর গুলি নয়
কর্নেল জোসে লুইস সিলভা যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ভেনিজুয়েলার শীর্ষ সেনাকর্মকর্তা। ওয়াশিংটনে কারাকাসের দূতাবাসে রেকর্ড করা এক ভিডিওতে সিলভা স্বঘোষিত অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিতে সেনাবাহিনীর প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি সেনাবাহিনীর সদস্যদের ‘ভাই’ উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকারকে ক্ষমতায় রাখতে আপনারা নিজ দেশের জনগনের ওপর গুলি চালাবেন না। আমাদেরকে অস্ত্র দেওয়া হয়েছে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, জনগনের ওপর ব্যবহারের জন্য নয়। তিনি বলেন, আমাদের সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা সৈন্যদের জিম্মি করে রেখেছেন। তাদের অনেকে অসন্তুষ্ট হলেও কিছু বলতে পারছেন না। তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে আরো দু’টি কনস্যুলেট গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দিয়েছে। তবে এর সতত্য নিশ্চিত করা যায়নি। গুয়াইদো সিলভার বার্তাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তবে মাদুরো সরকার সিলভাবে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ বলে আখ্যা দিয়েছে। ভেনিজুয়েলার প্রতিরক্ষামন্ত্রী এর আগে মাদুরোকে সমর্থন দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। সমপ্রতি মাদুরোর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করা একটি সেনাদলকে সরকার গ্রেপ্তার করে। মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র গ্রেট মারকুইস সিলভাকে অনুসরন করতে সেনাবাহিনীর অন্য সদস্যদের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, সাংবিধানিক নির্দেশ মানতে হবে, কোনো একনায়কের নয়।
সুর নরম মাদুরোর
প্রেসিডেন্ট মাদুরো যুক্তরাষ্ট্র ইস্যুতে সুর নরম করেছেন। শনিবার মার্কিন কূটনীতিকদের ভেনিজুয়েলা ত্যাগ করার কথা থাকলেও সবাই করেননি। ভেনিজুয়েলার কূটনীতিকরা যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে শুরু করেছে। মাদুরো মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই নির্দেশ থেকে তিনি সরে এসেছেন। তিনি বলেছেন, মার্কিন কূটনীতিকরা থাকতে পারবেন। আগামী ৩০ দিনের মধ্যে একটি সমঝোতা করতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। মাদুরো বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থ রক্ষায় ভেনিজুয়েলায় একটি অফিস করতে পারবে। ঠিক একইভাবে আমাদের একটি অফিস যুক্তরাষ্ট্রে থাকবে। উল্লেখ্য, একই ধরনের মার্কিন অফিস কিউবায় রয়েছে। প্রেসিডেন্ট মাদুরো বলেছেন, দুই দেশ যদি সমঝোতা করতে ব্যর্থ হয় তাহলে বাকি মার্কিন কূটনীতিকদের দেশ ছাড়তে হবে। আমরাও যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের মিশন বন্ধ করে দেবো। তিনি বলেন, আমরা উত্তর আমেরিকার উপনিবেশ হতে চাই না। এ বিষয়ে ওয়াশিংটন কোনো মন্তব্য করেনি। মাদুরো গুয়াইদোকে মার্কিন পুতুল বলে উল্লেখ করে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পসহ আন্তর্জাতিক সমপ্রদায়ের সঙ্গে আলোচনায় রাজি বলে জানিয়েছেন।
চাপের মুখে স্বীকার গুয়াইদোর
একটি ভিডিও নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন গুয়াইদো। অবশেষে তিনি শনিবার স্বীকার করেছেন, তিনি গোপনে সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন। এর আগে একজন আইনপ্রণেতা ক্যাবেলো গত সপ্তাহে এই বৈঠকের কথা জানিয়েছিলেন। মাদুরো সরকারের এই আইনপ্রণেতার সঙ্গে বৈঠকে মাদুরোর শীর্ষ সরকারি কর্মকর্তা ফ্রেডি বার্নাল ছিলেন। ওই বৈঠকের সব বক্তব্য রেকর্ড করেছিলেন ক্যাবেলা। পরে তিনি তা টুইটারে ছড়িয়ে দেন। বৈঠকে গুয়াইদো নতুন নির্বাচনে সমর্থন দিতে সবার প্রতি আহবান জানান। তখন ক্যাবেলা বলেন, নতুন নির্বাচন হতে পারে কেবল জাতীয় পরিষদের। এই পরিষদের নেতৃত্বে আছেন গুয়াইদো।
আল্টিমেটাম প্রত্যাখান ভেনিজুয়েলার
নতুন নির্বাচন দিতে আল্টিমেটাম দিয়েছিল জার্মানি, ফ্রান্স ও স্পেন। না হলে গুয়াইদোকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়। তবে মাদুরোর পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্গে আরেজা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের বিশেষ বৈঠকে ওই আল্টিমেটাম প্রত্যাখান করে বলেছেন, আমরা কারো অন্যায় নির্দেশ মানবো না। আমাদের নির্বাচন নিয়ে নির্দেশ দেওয়ার অধিকার কারো নেই। তিনি বলেন, ইউরোপ কেবল যুক্তরাষ্ট্রের নয়, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরকারের কাছে নতি স্বীকার করছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইইউ দেশগুলোকে উদ্দেশ্য করে বলেন, সার্বভৌম দেশের নির্বাচনী সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার ক্ষমতা আপনারা কোথায় পেলেন? এই ধরনের আক্রমণাত্মকভাব কেন নিচ্ছেন? তিনি বলেন, আমার মতে এটা শিশুসুুলভ আচরণ। আরেজা বলেন, সেনাবাহিনী কখনো মাদুরোকে উত্খাত করবে না। তারা মাদুরোর প্রতি আস্থাবান।