দুই মাতালের মধ্যে কথা কাটাকাটির জের ধরে বগুড়ার শেরপুরে দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০জন আহত হয়েছেন। এরমধ্যে গুরুতর আহত চারজনকে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিক্যাল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। গত শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলার কুসুম্বী ইউনিয়নের বাগড়া চকপোতা এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এলাকাবাসী জানান, শনিবার রাতে উপজেলার বাগড়া চকপোতা গ্রামের আসলাম সরকার ও তার বন্ধু একই এলাকার বাবু মিয়া একসঙ্গে মদপান করে স্থানীয় দুবলাগাড়ী বাজারে মাতলামি করছিলেন। একপর্যায়ে আসলাম সরকার সিগারেটের আগুন দিয়ে তার বন্ধু বাবুর শরীরে ছ্যাঁকা দেয়। এনিয়ে তাদের মধ্যে চরম বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে বাবু তার লোকজন ডেকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে আসলামের বাড়িতে হামলা চালায়। পরে উভয়পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন বলে তারা জানান। এরমধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় আসলাম সরকার (৪০), তার ছেলে মেহেদী হাসান (৯), ভাই আনিস আহমেদ (৪৫) ও প্রবাসী আব্দুস সালামকে (৩০) বগুড়ার শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শেরপুর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. সাজিদ হাসান লিংকন জানান, আহতদের মধ্যে চারজনকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে অসংখ্য আঘাত করায় শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়। এছাড়া একজনের মাথা ফেটে যাওয়ায় একাধিক সেলাই দেয়া হয়েছে। তাদের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বগুড়ায় স্থানান্তর করা হয়েছে। তাই এখনও শঙ্কামুক্ত বলা যাবে না বলে এই চিকিত্সক দাবি করেন।
এ প্রসঙ্গে শেরপুর থানার পুলিশ পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) বুলবুল ইসলাম জানান, সংঘর্ষের ঘটনা শুনেছি। তবে কোনো পক্ষই এখনও লিখিত অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান পুলিশের এই কর্মকর্তা।