চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউট এবং অঁলিয়স ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামে গতকাল রবিবার থেকে শুরু হয়েছে পাঁচদিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সমকালীন ভাস্কর্য প্রদর্শনী। জার্মানির মিউনিখ ভিত্তিক সংগঠন স্কালপচার নেটওয়ার্কের উদ্যোগে আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে এই ভাস্কর্য প্রদর্শনী চট্টগ্রামে চতুর্থবারের মতো অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বাংলাদেশের চট্টগ্রামসহ সারাবিশ্বে ২১টি দেশের ৭৫টি ভেন্যুতে গতকাল থেকে এই প্রদর্শনী একযোগে শুরু হয়েছে। অংশ নিচ্ছেন সারাবিশ্বের ৫ হাজার ভাস্কর্য শিল্পী। বাংলাদেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম, খুলনা, জগন্নাথ ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ৮২ জন শিল্পী তাদের ভাস্কর্য, স্থাপনাশিল্প ও ত্রিমাত্রিক শিল্পকর্ম নিয়ে এই প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন। স্কালপচার নেটওয়ার্ক এই প্রদর্শনী শুরু করে ২০১০ সাল থেকে। চট্টগ্রাম এই প্রদর্শনীর আন্তর্জাতিক ভেন্যু হিসেবে প্রদর্শনীতে যুক্ত হয় ২০১৬ সাল থেকে।
প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী ভাস্কর্যকে মানুষের শিল্প-প্রচেষ্টার আদিতম মাধ্যম উল্লেখ করে বলেন, ভাস্কর্য দেশে দেশে মানবতার কথা তুলে ধরে। যারা ভাস্কর্য গড়ার কাজে আছেন তারা সব কালেই মহত্ শিল্পী হিসেবে বিবেচিত হয়েছেন। চট্টগ্রাম ভেন্যুতে স্টার্ট ২০১৯ আন্তর্জাতিক প্রদর্শনীর উদ্বোধনের মধ্যদিয়ে চট্টগ্রামসহ বাংলাদেশ একটি বড় বিশ্ব ভাস্কর্য প্রদর্শনীর সঙ্গে যুক্ত হলো। তিনি বলেন, এই ভাস্কর্যই সারা পৃথিবীর মানুষের ঐক্যের অন্যতম মাধ্যম হতে পারে। প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে আধুনিককাল পর্যন্ত চিত্রকলার পাশাপাশি ভাস্কর্য তার আপন বৈশিষ্ট্যে আন্তর্জাতিক ভাষা হিসেবে গণ্য হয়েছে। মানব-সভ্যতার বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় ভাস্কর্যশিল্পেও অনেক বিবর্তন-পরিবর্তন ঘটেছে উল্লেখ করে প্রধান অতিথি বলেন, ভাস্কর্য সব সময় মানবতার পক্ষেই কথা বলেছে। মানুষের দুঃখ-বেদনা, বিজয়-গৌরব, সংবেদনশীল মনের নানা কথা শিল্পীরা তাদের ভাস্কর্যের মাধ্যমে প্রকাশ করার চেষ্টা করেছেন। তিনি আরো বলেন, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে গড়ে তোলা হয়েছে মহান মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য। চারুশিল্পীরা মানবসম্পদ, তাই চারুকলা ইনস্টিটিউটকে শীঘ্রই চারুকলা অনুষদে রূপান্তরের কথা ভাবা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভাস্কর্য নির্মাণ ও সংরক্ষণের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আরো জায়গা প্রদান করা হবে।
প্রফেসর ড. ফয়েজুল আজিমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য প্রফেসর ড. শিরীণ আখতার, কলা ও মানববিদ্যা অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. মো. সেকান্দর চৌধুরী, দেশের বরেণ্যশিল্পী ও প্রখ্যাত ভাস্কর হামিদুজ্জামান খান, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পুত্র এবং শিল্প শুভানুধ্যায়ী মাইনুল আলম, অঁলিয়স ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ড. সেলভাম থোরেজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা ইনস্টিটিউটের পরিচালক শায়লা শারমিন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন প্রদর্শনীর চট্টগ্রাম হোস্ট ভেন্যু কো-অর্ডিনেটর ভাস্কর্য শিল্পী এবং ইনস্টিটিউটের সহযোগী অধ্যাপক প্রণব মিত্র চৌধুরী। আরো বক্তব্য রাখেন স্পনসর প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের ব্র্র্যান্ড ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম।
প্রদর্শনীর বিশেষ অতিথি অঁলিয়স ফ্রঁসেজ চট্টগ্রামের পরিচালক ড. সেলভাম থোরেজ বলেন, ফ্রান্সের সঙ্গে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সমঝোতা স্মারকের আওতায় চারুশিল্পীদের প্রতি সব ধরনের সহায়তা অব্যাহত থাকবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন সাংবাদিক ও শিল্পী ড. সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ।
প্রদর্শনীর স্পনসর প্রতিষ্ঠান আরএফএল গ্রুপের কেইনো ফার্নিচার ও ভিগো ইলেক্ট্রোনিক্স। প্রদর্শনী আগামি ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত সবার জন্য ইনস্টিটিউটে শিল্পী রশিদ চৌধুরী গ্যালারিসহ খোলা প্রাঙ্গণে সকাল ১০টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এবং অঁলিয়স ফ্রঁসেজ গ্যালারিতে রবিবার ছাড়া প্রতিদিন বিকেল ৪টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত খোলা থাকবে।