ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে মেয়র পদে নির্বাচন করতে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থী আতিকুল ইসলাম। গতকাল রবিবার নির্বাচন সমন্বয়কারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এর আগে ২০১৮ সালে ঘোষিত তফসিলে মেয়র পদে ১৯ জন মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। গতকাল পর্যন্ত তৈরি পোশাকমালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সাবেক সভাপতি আতিকুল ইসলামসহ ২১ জন মনোনয়নপত্র কিনেছেন। তবে আগে যারা মনোনয়নপত্র কিনেছেন তাদের অনেকে নির্বাচন করতে অনাগ্রহ দেখাচ্ছেন। গত শনিবার রাতে আতিকুল ইসলামকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দেয় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ড।
২০১৭ সালের ৩০ নভেম্বর আনিসুল হকের মৃত্যু হলে ডিএনসিসির মেয়রের পদটি শূন্য হয়। ইসি ৯ জানুয়ারি এই পদে উপনির্বাচন এবং ডিএনসিসি ও ডিএসসিসিতে নতুন যুক্ত ১৮টি করে ৩৬টি ওয়ার্ডে এবং ছয়টি করে সংরক্ষিত মোট ১২টি কাউন্সিলর পদে সাধারণ নির্বাচনের জন্য তফসিল ঘোষণা করে। ভোট হওয়ার কথা ছিল ২৬ ফেব্রুয়ারি। কিন্তু মামলার কারণে আদালত তফসিলের কার্যকারিতা স্থগিত করে। সমপ্রতি আদালত এ সংক্রান্ত সব রিট খারিজ করে। ফলে আইনি জটিলতা দূর হয়। মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার শেষ দিন ৩০ জানুয়ারি। মনোনয়নপত্র বাছাই ২ ফেব্রুয়ারি, প্রত্যাহারের শেষ সময় ৯ ফেব্রুয়ারি। ভোটগ্রহণ ২৮ ফেব্রুয়ারি। রিটার্নিং কর্মকর্তা আবুল কাশেম গতকাল বলেন, নতুন করে যে তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে, তা আগের তফসিলের ধারাবাহিকতা। সে জন্য আগে যারা মনোনয়নপত্র নিয়েছেন বা জমা দিয়েছেন, তাদের নতুন করে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বা জমা দিতে হবে না। তবে কোনো প্রার্থী চাইলে তথ্য হালনাগাদ করে নতুন করে মনোনয়নপত্র জমা দিতে পারবেন।
গত বছরে তফসিল হওয়ার পর মোট ১৯ জন মেয়র পদে মনোনয়ন ফরম তুলেছিলেন। পুনঃতফসিলের পর দুইজন মনোনয়নপত্র কেনেন। গতবারসহ এ পর্যন্ত ঢাকা উত্তরের নির্বাচনের জন্য মেয়র পদে মনোনয়নপত্র কিনেছেন সেলিম উদ্দিন (স্বতন্ত্র), মোহাম্মদ শাকিল আহমেদ (এনডিএম), এইচবিএম ইকবাল (আওয়ামী লীগ), মোহাম্মদ ফজলে বারী মাসউদ (ইসলামী আন্দোলন), স্বাধীন আক্তার আইরিন (স্বতন্ত্র), শাকিল ওয়াহেদ (স্বতন্ত্র), মো. মাসুম বিল্লাহ (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি-এনপিপি), রবিন কুমার পাল (ডিজিটাল আওয়ামী লীগ), গাজী ইয়াকুব ইসলামী (ঐক্যজোট), কামরুল ইসলাম (বিএনএফ), আবুল কালাম আজাদ (জাতীয় বিপ্লবী পার্টি), আনিসুজ্জামান খোকন (স্বতন্ত্র), মোহাম্মদ ওসমান গনি (আওয়ামী লীগ), মুরসালিন হায়দার (স্বতন্ত্র), ফারুক আহমেদ (স্বতন্ত্র), এইচ এম গোলাম রেজা (স্বতন্ত্র), খালেদা খানম রুনু (বাংলাদেশ সত্যব্রত আন্দোলন), জুনায়েদ সাকী (স্বতন্ত্র), জিল্লুর রহমান চৌধুরী (স্বতন্ত্র), আনিসুর রহমান (ন্যাশনাল পিপলস পার্টি) ও আতিকুল ইসলাম (আওয়ামী লীগ)। একাধিক প্রার্থীর সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, এই নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের মেয়াদ শেষ হবে ২০২০ সালের এপ্রিলে। তাই অনেকেই এখন এ ব্যাপারে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। আর বিএনপি জানিয়েছে, দলটি ঢাকা সিটি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে না।
জামানত ১ লাখ টাকা: ইসি কর্মকর্তারা জানান, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ভোটার সংখ্যা যেহেতু ২০ লাখের বেশি, সেহেতু মেয়র প্রার্থী হতে জামানত হিসেবে ১ লাখ টাকা জমা দিতে হবে। ভোটার সংখ্যা অনুপাতে মেয়র প্রার্থীদের জামানত নির্ধারণ করা হয় সিটি নির্বাচনে। এছাড়াও প্রার্থীদের ভোটার তালিকার সিডি কেনা বাধ্যতামূলক। প্রতি ওয়ার্ডের সিডির জন্য প্রার্থীদের গুণতে হবে ৫০০ টাকা।