পূর্বশত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করা, জমি-জমা দখল, চোরাচালান ও মাদক পাচারের মতো অনৈতিক ও সন্ত্রাসী কার্যকলাপে অর্থের বিনিময়ে রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। জানা গেছে, শনিবার রাতে প্রতিপক্ষের ভাড়াটিয়া ৪/৫ জন রোহিঙ্গা কুতুপালং টিএনটি এলাকায় এক ব্যক্তিকে হত্যার উদ্দেশ্যে ব্যাপক মারধর করে গুরুতর জখম করে। এ ঘটনায় গ্রামবাসী ধাওয়া করে কুতুপালং ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নূর আলীর ছেলে লিয়াকত আলীকে (৩৫) আটক করে উখিয়া থানায় সোপর্দ করেছে।
ভুক্তভোগী জালিয়াপালং ইউনিয়নের ইমামের ডেইল গ্রামের ক্ষুদ্র নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠীর পরিবারের সদস্য চিনময় চাকমা (৫৫) জানান, তারা দীর্ঘ ৫০ বছর ধরে বনভূমির ২ একর জমি আবাদ করে সেখানে ধান ও বিভিন্ন শাক-সবজি উত্পাদন করে জীবনধারণ করছেন। স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল জমিটি জবর দখল করার চেষ্টা চালালে তিনি স্থানীয় ইউপি সদস্য ও চেয়ারম্যানকে বিচার দেন। তাদের নেতৃত্বে শালিশ বৈঠকে ওই জমিতে প্রতিপক্ষকে কোনো প্রকার হস্তক্ষেপ না করার নির্দেশ দিলেও তারা তা মানেনি। শুক্রবার রাতে প্রায় ২০/২৫ জন ভাড়াটিয়া রোহিঙ্গা নিয়ে তাদের জমির পানের বরজ, বেড়া তছনছ করে জমির দখল ছেড়ে দেওয়ার জন্য হুমকি দেয়। বর্তমানে তাকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আতংকে দিনযাপন করতে হচ্ছে।
এ ব্যাপারে জালিয়াপালং ইউনিয়নের চেয়ারম্যান নুরুল আমিন চৌধুরী জানান, এ রকম ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটছে এবং তা সামাজিকভাবে সমাধান করে দেওয়া হচ্ছে। তবু বিরোধ থামছে না।
তেলখোলা গ্রামের বাউনু চাকমা জানান, তেলখোলা ও মোছারখোলা গ্রামের উপজাতি সম্প্রদায়ের চাষাবাদের জমিগুলো স্থানীয় প্রভাবশালীরা তাজনিমার খোলায় বসবাসরত রোহিঙ্গাদের দিয়ে জবরদখল করে নিচ্ছে। এতে বাধা দিলে নিরীহ পরিবারের লোকজনকে মারধর করা হচ্ছে। তিনি বলেন, রোহিঙ্গারা উপজাতিদের পানের বরজের বেড়া ও বিভিন্ন উপকরণ জোর করে নিয়ে যাচ্ছে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করার জন্য।
এ ব্যাপারে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ আবুল খায়ের জানান, এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেলে তাত্ক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, শনিবারের ঘটনায় আটক ভাড়াটে রোহিঙ্গাকে ভ্রাম্যমাণ আদালতে সোপর্দ করা হবে।