আপাত দৃষ্টিতে প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়

জীববিজ্ঞান

মো. আসাদ-উজ্জামান, শিক্ষক

সরকারি মোহাম্মদপুর মডেল স্কুল এন্ড কলেজ

ঢাকা

 

সুপ্রিয় বন্ধুরা, সামনে তোমাদের এসএসসি পরীক্ষা। বিজ্ঞানের বিষয়গুলো বুঝে বুঝে পড়তে হবে। তাহলে বহুনির্বাচনি সহ সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবে। আমি তোমাদের পাঠ থেকে বিভিন্ন অধ্যায়গুলো ধারাবাহিক আলোচনা করবো। মনোযোগ দিয়ে পড়বে।

 

সালোকসংশ্লেষণে উত্পাদিত পদার্থের পরিবহণ

উদ্ভিদ অভিস্রবণ প্রক্রিয়ায় মূলের সাহায্যে পানি গ্রহণ করে, সূর্যের আলোর উপস্থিতিতে বায়ু থেকে গৃহিত কার্বন ডাই অক্সাইড পানির সাথে বিক্রিয়া করে শর্করা জাতীয় খাদ্য উত্পাদন করে। এ খাদ্য উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে চলে যায়। আর এ কাজটি সম্পন্ন হয় ফ্লোয়েমের মাধ্যমে।

ফ্লোয়েমের মাধ্যমে পরিবহণ :

উদ্ভিদের  মূল ও পাতা পরস্পর থেকে দূরে অবস্থান করায় খাদ্য চলাচলে একটি দ্রুত ও কার্যকর পরিবহন ব্যবস্থা থাকা আবশ্যক। এ কাজটি ফ্লোয়েমের সিভনল করে থাকে।

১। ফ্লোয়েম পরিবহন নালিকাগুচ্ছের অন্যতম, এতে সিভনল, সঙ্গীকোষ, ফ্লোয়েম প্যারেনকাইমা ও  বাস্টফাইবার থাকে।

২। সিভনল এক প্রকার নিউক্লিয়াসবিহীন নালীকা যা, লম্বালম্বিভাবে একটির সাথে অন্যটি যুক্ত হয়ে উদ্ভিদ দেহে লম্বা নলের সৃষ্টি করে।

৩। দুটো নালীকার মধ্যবর্তী অনুপ্রস্থ প্রাচীরটি স্থানে স্থানে চালুনির ন্যায় ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ছিদ্রযুক্ত।

৪। এর মধ্য দিয়ে খাদ্যদ্রব্য সহজেই এক কোষ থেকে অন্য কোষে চলাচল করতে পারে। শীতকালে এ ছিদ্রগুলো ক্যালোজ নামক রাসায়নিক পদার্থ জমে ছোট হয়, ফলে খাদ্য চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। কিন্তু গ্রীষ্মের আগমনে ক্যালোজ গলে যায় এবং খাদ্য চলাচল বেড়ে যায়।

প্রস্বেদন : স্থলজ উদ্ভিদ যে শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়ায় তার বায়বীয় অঙ্গের মাধ্যমে বাষ্পাকারে পানি বের করে দেয় তাকে প্রস্বেদন বলে।  উদ্ভিদের পাতা ও অন্যান্য বায়বীয় অঙ্গ থেকে জলীয় বাষ্প বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে প্রস্বেদন বলে।

প্রস্বেদন উদ্ভিদের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া। এর ফলে উদ্ভিদ দেহ থেকে প্রচুর পানি বাষ্পাকারে বেরিয়ে যায়। এতে কোনো কোনো সময় উদ্ভিদের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই আপাতদৃষ্টিতে প্রস্বেদন উদ্ভিদের জন্য ক্ষতিকর প্রক্রিয়া বলেই মনে হয়। এজন্য প্রস্বেদন কে Necessary  evil বলা হয়।

প্রস্বেদন সংঘটনের স্থানের ভিত্তিতে প্রস্বেদন তিন প্রকার। যথা-

 পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন (Stomatal transpiration)

 ত্বকীয়/ কিউটিকুলার প্রস্বেদন (Cuticular transpiration)

 লেন্টিকুলার প্রস্বেদন (Lenticular transpiration)

পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন : পাতায়, কচি কাণ্ডে, ফুলের বৃতি ও পাপড়িতে দুটি রক্ষিকোষ বিশিষ্ট এক প্রকার রন্ধ্র থাকে। এদের পত্র রন্ধ্র বলে। পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে যে প্রস্বেদন হয় তাকে বলা হয় পত্ররন্ধ্রীয় প্রস্বেদন। উদ্ভিদের ৯০- ৯৫% প্রস্বেদন হয় পত্ররন্ধ্রের মাধ্যমে।

কিউটিকুলার প্রস্বেদন ঃ উদ্ভিদের বহি:ত্বকে বিশেষ করে পাতার উপরে ও নিচে কিউটিনের আবরণ থাকে। এ আবরণকে কিউটিকল বলে। কিউটিকল ভেদ করে কিছু পানি বাষ্পাকারে বাহির হয়। এই প্রক্রিয়াকে কিউটিকুলার প্রস্বেদন বলে।

লেন্টিকুলার প্রস্বেদন : উদ্ভিদের কাণ্ডের বাকল ফেঁটে লেন্টিসেল নামক ছিদ্রের সৃষ্টি হয়। লেন্টিসেলের মাধ্যমে কিছু পানি বাইরে বের হয়ে যাবার প্রক্রিয়াকে লেন্টিকুলার প্রস্বেদন বলে।

প্রস্বেদনের প্রভাবক ঃ

প্রস্বেদনের ফলে অতিরিক্ত পানি উদ্ভিদ দেহ থেকে বের হয়ে যায় এবং এর ফলে সৃষ্ট টানে পানি শোষিত হয়। এ প্রক্রিয়াটি অনেকগুলো প্রভাবকের উপর নির্ভরশীল। প্রস্বেদনের প্রভাবক কে দুভাগে ভাগ করা যায়, যথা-

১। বাহ্যিক প্রভাবক

২। অভ্যন্তরীণ প্রভাবক

বাহ্যিক প্রভাবক : উদ্ভিদ দেহের বাইরে অবস্থান করে যারা প্রস্বেদনকে প্রভাবিত করে তাদেরকে বাহ্যিক প্রভাবক বলে, যথা-

তাপমাত্রা  : তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে প্রস্বেদনের হারও ওঠানামা করে। তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। ফলে প্রস্বেদনের হার বেড়ে যায়। তাপমাত্রা কমে গেলে প্রস্বেদনের হার কমে যায়।