মো.আব্দুল বাকী চৌধুরী নবাব
মূলতঃ সংখ্যা লিপিতে শূন্য তথা জিরো (Zero) হলো বিস্ময়কর অংক বা ডিজিট। একে নিয়ে যুগ-যুগান্তর ধরে গবেষণা করে কূল-কিনারা মিলছে না। এদিকে বর্তমানে কম্পিউটার জগতের ভাষা হলো বাইনারী পদ্ধতির আওতায় ০ এবং ১ অর্থাত্ আছে এবং নেই। অনেক মনীষী বলে থাকেন যে, “Zero in everything & everything in zero” এই কথাটি যত সহজে বললাম। কিন্তু নিগূঢ় রহস্য ঘেরা এর ব্যাখ্যা অতটা সহজ নয়। সম্মানিত পাঠকবর্গ আপনারা হয়তো সদয় অবহিত আছেন যে, গ্রীক এবং রোমান সংখ্যা লিপিতে শূন্য ব্যবহার না হলেও, এর সুপ্ত সজীব বীজ হিসেবে এদের মধ্যে বিদ্যমান। তবে অন্যান্য সংখ্যা লিপিতে “বৃত্ত” এর আদলে শূন্য মাথা উঁচু করে বিজ্ঞান ও ধর্ম উভয়কেই জোর গলায় শাশ্বত কথা বলে যাচ্ছে। এমনকি পঞ্চম মাত্রায়ও রয়েছে বিভিন্ন ফর্মে শূন্যের অবাধ বিচরণ। এটা সর্বজনবিদিত যে, শূন্যের আদলে প্রথম বৃত্ত বা গোল ব্যবহার করেছেন প্রাচীন ভারতের পণ্ডিত আর্যভট্ট। কিন্তু আসলে কি তাই? এ নিয়ে নানা আঙ্গিকে মতভেদের ঝড় উঠেছে প্রথম থেকেই, যা এখনও অব্যাহত আছে। এ প্রেক্ষাপটে উল্লেখ্য যে, যতদূর আমরা তথ্যাদি নিয়েছি, তাতে প্রতীয়মান হয় যে তিনটি সভ্যতায় শূন্যকে নিয়ে যথেষ্ট ভাবনা-চিন্তা করা হয়েছিল। যেমন- মায়া সভ্যতা, ব্যাবিলনীয় সভ্যতা এবং ভারতীয় সভ্যতা। মায়া সভ্যতায় বিভিন্ন আঙ্গিকে শূন্যের উপর গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছিল। দক্ষিণ আমেরিকার এই মায়া সভ্যতায় আদিবাসীরা উক্ত সংখ্যা নিয়ে নাড়া-চাড়া কম করেনি? তত্পর আসে ব্যাবিলনীয় সভ্যতা, যার সূতিকাগার ছিল প্রাচীন ইরাকে। যদিও ব্যাবিলনীয়রা শূন্য ব্যবহার করতো না, তথাপিও শূন্যের আবশ্যকতা হলে কেবল ফাঁকা রাখতো। তত্পর কালের পরিক্রমায় কিছুটা এগিয়ে যেয়ে ফাঁক না রেখে দুটি হুক ব্যবহার শুরু করে। যেমন- বর্তমান ২০৮, সেখানে ব্যাবিলনে প্রথমে ২..৮ তত্পর ২” ৮। তবে যেভাবেই বলি না কেন শূন্যের ধারণা ও ভাবনা সবার চেয়ে এগিয়ে প্রাচীন ভারতীয়রা। তখন প্রখ্যাত গণিতবিদ ছিলেন ব্রহ্মগুপ্ত, মহাবীর ও ভাস্কর। শূন্যের ব্যবহার নিয়ে যতই মতভেদ থাকুক না কেন। সবার উর্দ্ধে এ ব্যাপারে ওয়েটেজ পাওয়া অধিকারী হলো প্রাচীন ভারতীয় এই পণ্ডিতরা শূন্যের আবিস্কারের সব প্যারামিটার বিবেচনায় এনে মনে করা হয় যে, খৃষ্টপূর্ব শতাব্দির ক্রান্তিলগ্নে দশমিক ও অংকপাতন আবিস্কারের প্রাক্কালে প্রাচীন ভারতে শূন্যের এ্যানাটমির আওতায় গোল বা বৃত্ত সংবলিত শূন্য প্রতীকি রূপ প্রবর্তন হয়। এক্ষেত্রে এক হতে নয় পর্যন্ত অংক বা ডিজিট আগেই ছিল, যার পুরোধা ছিলেন স্বয়ং গ্রীক মনীষী পীথারোগাস।
পরের অংশ আগামীকাল