দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় ‘সারিয়াকান্দিতে কোটি টাকার তীর রক্ষা বাঁধ ঝুঁকিতে’ সংবাদ প্রকাশের পর নড়েচড়ে বসেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড। সোমবার পাউবো সারিয়াকান্দি উপ-বিভাগের উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহবুবুল ইসলাম জামি বাদী হয়ে সারিয়াকান্দি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন।
জানা গেছে, বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে যমুনা নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) জিডির প্রেক্ষিতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শরীফ আহমেদ ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আল আমিন পরস্পরকে দায়ী করছেন।
জিডিতে উল্লেখ, ‘পাউবো বগুড়ার নিয়ন্ত্রণাধীন ৪৫ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ (বিআরই) ও সারিয়াকান্দি, সোনতলা, ধুনট উপজেলার বৃহৎ জনপদ নদী ভাঙ্গন থেকে রক্ষাকল্পে যমুনার বিভিন্ন জায়গায় বিভিন্ন সময় স্পার, গ্রোয়েন, হার্ডপয়েন্ট ও তীর সংরক্ষণ কাজ বাস্তবায়ন করা হয়। শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত ওই অবকাঠামোগুলো ভাঙ্গন রোধে অত্যন্ত কার্যকরি হয়েছে। কিন্তু কালিতলা গ্রোয়েন থেকে কতুবপুর ইউনিয়নের ধলিরকান্দি পর্যন্ত যমুনার বিভিন্ন পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে একটি প্রভাবশালী সংঘবদ্ধ চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এতে অবকাঠামো গুলো ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। শুধু তাই নয়, বালু বোঝাই ট্রাক চলাচলে তীর সংরক্ষণ কাজের ওয়াকওয়ে প্রচণ্ডভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’
এ ব্যাপারে সারিয়াকান্দি থানার অফিসার ইন চার্জ আল আমিন জানান, ‘বালু-ভূমি সংক্রান্ত কাজ এসিল্যান্ড ও ইউএনও সাহেবের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তারা চাইলে আমরা সহযোগিতা করবো।’
ইউএনও শরীফ আহমেদ বলেন, ‘অভিযোগ করা হয়েছে ওসির কাছে। আমাকে অনুলিপি দেওয়া হয়েছে। তাই আমি ব্যবস্থা নিতে পারিনা। ওসির সাথে যোগাযোগ করুন।’
উপ-সহকারি প্রকৌশলী মাহবুবুল জামি বলেন, ‘অনুলিপিতে ব্যবস্থা নিতে ইউএনওকে বিশেষ ভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।’
আরো পড়ুন: শহরে হোসিয়ারী শ্রমিকের লাশ উদ্ধার
অপরদিকে, নির্বাহী প্রকৌশলী হাসান মাহমুদ বলেন, ‘জিডির কপি নিয়ে আবার নতুন করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
এভাবে একজন অন্যজনকে দায়ী করায় বালু উত্তোলন বন্ধে অযথা সময় ক্ষেপণ করা হচ্ছে বলে অনেকে মনে করছেন অনেকে।
ইত্তেফাক/অনি/নূহু