পদ্মা সেতুকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে মাদারীপুরের শিবচর ও শরীয়তপুরের জাজিরায় বর্তমান সরকার একাধিক মেগা প্রকল্পের কাজ হাতে নিয়েছে। তার মধ্যে শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি অন্যতম প্রস্তাবিত প্রকল্প। এ প্রকল্পকে ঘিরে অতিরিক্ত টাকা উত্তোলনের জন্য এলাকার অসাধু একটি চক্রের সঙ্গে হাত মিলিয়ে অন্য এলাকার একাধিক ব্যক্তি রাতারাতি প্রস্তাবিত জমির ওপর ঘর-বাড়ি গাছসহ বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ করছে।
জানা যায়, গত ১ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লি’র ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পটির জন্য জেলার শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে ৬০ একর ও শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় ৪৮ একর জায়গা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ প্রকল্পে অসংখ্য ৬ তলা বিশিষ্ট ভবনে প্রত্যেক তাঁতির জন্য ৬শ ফুটের কারখানা ও ৮শ ফুটের মধ্যে আবাসন সুবিধা থাকবে। সরকারের পক্ষ থেকে সুতা রংসহ কাঁচামালের সুবিধা দেওয়া হবে। নির্মাণ হবে আন্তর্জাতিক মানের শোরুম। প্রশিক্ষণ কেন্দ্র। তাঁতিদের ছেলে-মেয়েদের জন্য থাকবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। জেলা প্রশাসন থেকে সম্প্রতি সংশ্লিষ্ট উপজেলা ভূমি অফিসে রেকর্ড ভূমির মালিকদের দাগ ভিত্তিক তথ্য চাওয়া হয়েছে। এমন তথ্য নাওডোবা ও কুতুবপুরে ছড়িয়ে পড়লে ওই জমির মালিক ও একশ্রেণির দালাল চক্র ঘরসহ স্থাপনা নির্মাণ ও গাছ লাগানো শুরু করেছেন। প্রতিদিন শত শত অবৈধ স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে ক্ষতিপূরণে বাড়তি বিলের আশায়। গত ২৬ জানুয়ারি মাদারীপুর-১ (শিবচর) আসনের ৬ বারের সফল সংসদ সদস্য নূর-ই-আলম চৌধুরী লিটন এলাকা পরিদর্শনে অবৈধভাবে গাছপালা লাগানো ও ঘর-দরজা নির্মাণের দৃশ্য দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
গত ২৭ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের বরাত দিয়ে তিন দিনের মধ্যে অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে মাইকিং করা হয় এবং বিকাল ৫টার সময় অত্র এলাকার ইউপি সদস্য মো. চাঁন মিয়া খাঁ ও পুলিশসহ শিবচর উপজেলার নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. ইমরান আহম্মেদ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে অবৈধ স্থাপনার নির্মাণ কাজ বন্ধ করে দেন।
কুতুবপুর ৯ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা সাবেক ইউপি সদস্য মো. নজরুল খান বলেন, একশ্রেণির দালাল চক্রের কারণে প্রকৃত জমি ও ঘর মালিকরা সমস্যায় পড়েছে। শিবচরে প্রশাসন তত্পর হলেও জাজিরায় শুধু মাইকিংই চলছে।
মাদারীপুরের জেলা প্রশাসক মো. ওয়াহিদুল ইসলাম বলেন, ওই এলাকায় অবৈধ স্থাপনা সরিয়ে নিতে ৭২ ঘণ্টার আল্টিমেটাম দিয়ে মাইকিং করিয়েছি। শেখ হাসিনা তাঁতপল্লির জন্য বাংলাদেশ তাঁত বোর্ডের জন্য জমিটা অধিগ্রহণের প্রস্তাব করা হয়েছে। আসলে প্রাথমিকভাবে এই জায়গাটা সিলেক্ট করা হয়েছে। আমরা চূড়ান্তভাবে এখনো অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু করিনি। তবে ৪ ধারা নোটিস দেওয়ার পরেই মূল অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে স্থানীয় মানুষের সহায়তায় একশ্রেণির প্রতারক চক্র ঘরবাড়ি নির্মাণ করছে ও বিল উত্তোলন করে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। আমরা এ বিষয় অবগত আছি। খুব শীঘ্রই প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।