সরফরাজের নিষেধাজ্ঞা আইসিসির সিদ্ধান্তে পিসিবির হতাশা

স্পোর্টস রিপোর্টার

অধিনায়ক সরফরাজ আহমেদকে আইসিসির দেওয়া চার ম্যাচের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্তটা পছন্দ হয়নি পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) এর। অধিনায়কের অপরাধকে ক্ষমার অযোগ্য মানলেও বিষয়টা দুই দেশের খেলোয়াড় বোর্ডের আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে ব্যাপারটার আগেই সুরাহা হয়ে গেছে বলে মনে করছে এই সংস্থাটি।

পিসিবি এক বিবৃতিতে নিজেদের হতাশা প্রকাশ করে বলেছে, ‘আইসিসি সরফরাজ আহমেদের ব্যাপারে যে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে তাতে পিসিবি হতাশা জানাচ্ছে। পিসিবি বিশ্বাস করে যে, যেহেতু সরফরাজ প্রকাশ্যে ব্যাপারটি নিয়ে আক্ষেপ জানিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করেছে, তাই আইসিসির সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগেই বিষয়টা দুই দেশের খেলোয়াড় ও বোর্ডের মধ্যে সুরাহা হয়ে গেছে।’

পিসিবি জানিয়েছে সিরিজের বাকিটা সময় পাকিস্তানের নেতৃত্ব দেবেন বর্ষীয়ান ক্রিকেটার শোয়েব মালিক। এই মালিকের নেতৃত্বেই চতুর্থ ওয়ানডেতে গেল রবিবার জয় পেয়ে সিরিজেও ফিরেছে পাকিস্তান। টি-টোয়েন্টি দলে যোগ দিয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। সরফরাজ আহমেদকে দেশে ডেকে পাঠানো হয়েছে।

তবে, পিসিবি মনে করে আইসিসির বর্ণবাদ বিরোধী আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনা জরুরি। তারা বলছে, ‘আইসিসির ফোরামে এই বিষয়টি নিয়ে কথা বলবে পিসিবি, কারণ সম্ভবত বর্ণবাদ বিরোধী আইনে কিছুটা পরিবর্তন আনার এটাই সঠিক সময়। তবে এটাও আমাদের যোগ করে দেওয়া জরুরি বর্ণবাদী কোনো মন্তব্য বা আচরণের ক্ষেত্রে আমরাও এক বিন্দু ছাড় দেই না।’

জানিয়ে রাখা ভালো, ডারবানে অনুষ্ঠিত সিরিজের দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অ্যান্ডাইল ফেলুকওয়াও যখন ব্যাট করছিলেন, তখন সরফরাজ এই কৃষ্ণাঙ্গ অলরাউন্ডারকে সরাসরি গায়ের রং উল্লেখ করে এবং মাকে সম্পৃক্ত করে একটি মন্তব্য করে বসেন। এই কথা স্ট্যাম্প মাইক্রোফোনে সারা দুনিয়া জুড়ে সম্প্রচারিত হয় এবং নিন্দার ঝড় ওঠে।

এরপর সরফরাজ দুই দফা টুইটারে ক্ষমা চেয়েছেন। এরপর ফেলুকওয়াওয়ের কাছে সরাসরিও ক্ষমা চেয়েছেন তিনি। বারবারই বলেছেন, তিনি নির্দিষ্ট করে এই অলরাউন্ডারকে আক্রমণ করতে কথা বলেননি। সরফরাজ টুইটারে ক্ষমা চাওয়ার পর লিখেছিলেন, ‘আজ সকালে আমি অ্যান্ডাইল ফেলুকওয়াওয়ের কাছে ক্ষমা চেয়েছি। আর সে এতটাই ভালো মানুষ যে, আমার ক্ষমাপ্রার্থনা মেনে নিয়েছে। আশা করি, দক্ষিণ আফ্রিকার লোকেরাও আমাকে ক্ষমা করে দেবেন।’

যদিও, এরপরই সরফরাজের ওপর নেমে আসে নিষেধাজ্ঞার খড়্গ। সরফরাজ কেবল চার ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধই হননি, তাকে আইসিসির বর্ণবাদ বিরোধী শিক্ষামূলক প্রোগ্রামেও অংশ নিতে হবে।