স্পোর্টস রিপোর্টার
রহমতগঞ্জের অন্তিম মুহূর্তের গোলে জয়টা হারিয়ে গেল শেখ জামাল ক্লাবের।
শেখ জামাল তখন ২-১ গোলে এগিয়ে থাকা অবস্থায় রেফারি আনিসুর রহমান সাগরের শেষ বাঁশি বাজার অপেক্ষায়। ঠিক সেই সময় রহমতগঞ্জ গোল করে ম্যাচটা ড্রয়ে নামিয়ে আনল। নিশ্চিত হার থেকে রক্ষা পেল রহমতগঞ্জ। কপাল পুড়লো বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের রানার্স আপ শেখ জামালের। তারপরও লিগে তিন খেলায় এসে প্রথম পয়েন্ট পেল শেখ জামাল। সমান খেলায় রহমতগঞ্জের ২ পয়েন্ট।
পেশাদার লিগে নিজেদের প্রথম দুই ম্যাচের উভয়টিতেই হেরেছিল শেখ জামাল। প্রথম খেলায় বসুন্ধরা কিংস ও পরেরটিতে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রের কাছে। হ্যাটট্রিক হয়েছিল সেই ম্যাচে। গতকালই প্রথম শেখ জামাল বঙ্গবন্ধু জাতীয় স্টেডিয়ামে লিগের ম্যাচে নামলো। ভালোই খেলছিল দলটি। গোল পাবে পাবে এমন পরিস্থিতিও হয়ে গিয়েছিল। রহমতগঞ্জকে চাপে রেখে গোলের সুযোগ বের করার চেষ্টায় থাকা শেখ জামাল স্রোতের বিপরীতে গোল হজম করে। নিজেদের ডিফেন্ডার মানিক ও আশিক আহমেদের ব্যর্থতায় রহমতগঞ্জের কঙ্গোর ফুটবলার সিউ জুনাপিও অষ্টম মিনিটে সুযোগ লুফে নেন। গোলকিপার নাইমকে কাটিয়ে ফাঁকা পোস্টে বাঁ পায়ে গোল করেন ১-০। গোল হজম করে সবাই নিজেদের মধ্যে ক্ষোভ ঝারলেন। ওই গোলের পর ২০তম মিনিটেই পেনাল্টি পেয়েছিল শেখ জামাল। কিন্তু তাদের অধিনায়ক গাম্বিয়ান ফরোয়ার্ড সলোমন কিং সুযোগটি নিতে ব্যর্থ হন। তার পেনাল্টি শট কর্নারে ঠেকিয়ে দেন রহমতগঞ্জের গোলকিপার আরিফুল ইসলাম। গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন শেখ জামালের আর্জেন্টাইন স্ট্রাইকার লুসিয়ানো এমানুয়েল। বিরতির আগেই দর্শনীয় বাইসাইকেল কিকে গোল শোধ করে পেনাল্টি নষ্টের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছেন সলোমন কিং কনফার্ম ১-১। শেখ জামালের সঙ্গে কাল জয়ের নেশাও ছিল রহমতগঞ্জের। আর্জেন্টাইন লুসিয়ানো বারবার সুযোগ নষ্ট করার কারণে রহমতগঞ্জও আশার প্রদীপ জ্বালিয়ে রেখেছিল সুযোগ পেলেই কাজে লাগানোর জন্য। অনেক সুযোগ হাতছাড়ার পর শেষ পর্যন্ত ৮৩ মিনিটে লুসিয়ানো কঠিন সুযোগটাকে সহজ গোলে পরিণত করেন ২-১। সবাই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলেন এগিয়ে যাওয়ায়।
কিন্তু শেষ বাঁশি বাজার আগ মুহূর্তে রহমতগঞ্জের সিউ জুনাপিউর ক্রসে নিখুঁত হেডে গোল করেন দলের অধিনায়ক নাইজেরিয়ান মানডে ওসাগেই ২-২।
শেখ জামালের নাইজেরিয়ান কোচ যোসেফ আফুসি আফসোস করলেও সন্তুষ্টির কথাই ঝরল তার কণ্ঠে। বলছিলেন, ‘না পাওয়ার চেয়ে এক পয়েন্টই বা কম কি। আমাদের ইনজুরি অনেক বেশি। এগুলো বললে অজুহাত হয়ে যায়। আমার কথা হচ্ছে খেলার শেষ মুহূর্তে এসে মনোযোগ হারাব কেন।’ রহমতগঞ্জ কোচ গোলাম জিলানী বললেন, ‘আমাদের জেতা উচিত ছিল। পারফরম্যান্স বিচার করলে আমরাই ভালো খেলেছি।’