পরিবহন মালিকরা রেকারিং আতঙ্কে

অবিলম্বে মহাসড়কে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের

দাবি ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির

বিশেষ প্রতিনিধি

অবিলম্বে সড়ক ও মহাসড়কে মামলা দেওয়ার নামে পুলিশের চাঁদাবাজি বন্ধের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতি। নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, নির্বাচনের পর থেকে পুলিশের চাঁদাবাজি সীমাহীন মাত্রায় বেড়ে গেছে। দ্রুত এ পরিস্থিতির অবসান না হলে তারা কর্মসূচি দিয়ে আন্দোলনে যেতে বাধ্য হবেন। গতকাল সোমবার রাজধানীর তেজগাঁও ট্রাক টার্মিনালে সমিতির কেন্দ্রীয় কার্যালয় পুলিশের চাঁদাবাজি ও গাড়ির কাগজপত্রের সমস্যা নিয়ে কার্যনির্বাহী কমিটির এক জরুরি সভায় নেতৃবৃন্দ এ দাবি জানান। সভায় সভাপত্বি করেন বাংলাদেশ ট্রাক-কাভার্ডভ্যান মালিক সমিতির সভাপতি হাজী মোঃ তোফাজ্জল হোসেন মজুমদার।

সভায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী সভাপতি মোঃ রুস্তম আলী খান বলেন, পণ্য পরিবহন খাত দেশের অর্থনৈতিক খাতকে চলমান রাখতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। দেশের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যেও পণ্য পরিবহন শিল্প দেশের স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে; কিন্তু এই সুষ্ঠু পরিবহন ব্যবস্থাকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য পুলিশের কিছু অসাধু কর্মকর্তা তাদের অসত্ উদ্দেশ্য চিরতার্থ করার লক্ষ্যে পণ্য পরিবহন শিল্পে চাঁদাবাজিতে লিপ্ত রয়েছে। বিশেষ করে দেশের সকল সড়ক-মহাসড়কে হাইওয়ে পুলিশ, জেলা পুলিশ কথায় কথায় মামলা ও কাগজপত্র কোনো কারণবশত ফেল থাকলে এবং ঠুনকো মনগড়া অজুহাতের মাধ্যমে রেকার দ্বারা ডাম্পিং-এর ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। রেকার বাণিজ্য, ফিটনেসের নামে পুলিশের চাঁদাবাজিতে পণ্য পরিবহন মালিকরা আজ অতিষ্ঠ, লাঞ্ছিত ও নির্যাতিত। এতে করে সারাদেশে মালিক ও শ্রমিকদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে। যে কোনো সময় ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটতে পারে। নেতৃবৃন্দ আরো বলেন, এক শ্রেণির রেকার মালিকরা কিছু অসাধু পুলিশ কর্মকর্তার যোগসাজশে রেকারিং-এর ভয় দেখিয়ে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এতে করে পরিবহন মালিকদের মধ্যে রেকারিং আতঙ্ক থেকেই যাচ্ছে।

সমিতির সহ-সাধারণ সম্পাদক হোসেন আহম্মেদ মজুমদার বলেন, ১০টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত গাড়ির চলাচলের কর্মঘণ্টা নির্ধারণ করা হলেও উক্ত সময়ের মধ্যে শহরে প্রবেশ বা বের হলে মামলায় পড়তে হয়। এটা পরিবহন খাতকে অশান্ত করার কৌশল কিনা তা খতিয়ে দেখার আহ্বান জানান তিনি। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কার্যকরী সভাপতি এস এম বকতিয়ার, সহ-সভাপতি আমির হোসেন নান্নু, যুগ্ম সম্পাদক হোসেন আহম্মেদ মজুমদার, ফারুক হোসেন হেলাল, সাংগঠনিক সম্পাদক খোরশেদ আলম খান, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক কুতুবুদ্দিন সাগর, সহ-প্রচার সম্পাদক হাজী শাহজাহান প্রমুখ।