মূল অপরাধী খালেদা জিয়ার সাজা কম হওয়ার সুযোগ নেই

হাইকোর্ট বলেছে, জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া মূল অপরাধী। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করাই যুক্তিযুক্ত। নিম্ন আদালত সহযোগী হিসেবে এ মামলার অপর আসামিদের দশ বছর দণ্ড দিয়েছে। সেক্ষেত্রে মূল অপরাধী হিসেবে তাকে একই পরিমাণ সাজা দেওয়াটা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে পারে। কারণ সরকারের সর্বোচ্চ পদে আসীন হয়ে ভবিষ্যতে কাউকে এ ধরনের অপরাধ করার ক্ষেত্রে যাতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে এ পর্যবেক্ষণ দেওয়া হয়েছে। রায়ে বলা হয়েছে, নিম্ন আদালত খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থা, বয়স ও সামাজিক পরিচয় বিবেচনা করে পাঁচ বছরের দণ্ড দিয়েছিলো; কিন্তু  অপরাধ সংঘটনের ক্ষেত্রে মূল আসামিকে কম সাজা দেওয়ার ক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের এই যুক্তি গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। কারণ তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে খালেদা জিয়ার দায়িত্ব ছিলো এতিমের কল্যাণে কাজ করা; কিন্তু সেক্ষেত্রে ভুয়া ট্রাস্ট খুলে পুত্র, আত্মীয়-স্বজন ও দলীয় ব্যক্তিদের দিয়ে ক্ষমতা অপব্যবহারের মাধ্যমে এতিমের তহবিল পরিচালনা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে খালেদা জিয়ার প্রকাশ্য সমর্থন ও সহায়তা ছিলো। তার সমর্থন ব্যাতীত কোনোভাবেই এতিম তহবিলের টাকা মামলার অন্য আসামিদের অ্যাকাউন্টে হস্তান্তর হতে পারে না। ফলে সংঘটিত অপরাধের দায় থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে থেকে এ ধরনের দুর্নীতির দায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত হওয়ায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে আমাদের দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। 

রায়ে বলা হয়, অর্থনৈতিক অপরাধসহ দুর্নীতি আমাদের দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠার ধারণার ক্ষেত্রে শুধুই বিপজ্জনক অবস্থায় পৌঁছেনি বরং এটা আমাদের গণতন্ত্রের ভিত্তি, সামাজিক ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে হুমকিস্বরূপ। রায়ে বলা হয়, যেখানে দুর্নীতি শুরু হয় সেখানে সকল অধিকারের সমাপ্তি ঘটে, অবমূল্যায়িত হয় মানবাধিকারের, বাধাগ্রস্ত হয় উন্নয়ন। দুর্বল করে সংবিধানের মূল ভিত্তিকে। দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ক্ষেত্রে আদালতেরও দায়িত্ব পালনের সুযোগ রয়েছে।

হাইকোর্টের দুই বিচারপতির স্বাক্ষরের পর গতকাল সোমবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েব সাইটে এ রায় প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত রায়টি ১৭৭ পৃষ্ঠার। মূল রায়টি লিখেছেন বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম। রায়ে বলা হয়, প্রধানমন্ত্রীর এতিম তহবিলের টাকার যথাযথ ব্যবহার ও এর সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব ছিলো খালেদা জিয়ার। কারণ অপরাধ সংঘটনের সময়কালে উনি প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন; কিন্তু ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেও তিনি সে দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন।

প্রসঙ্গত গত বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট মামলায় ঢাকার বিশেষ জজ আদালত খালেদা জিয়াকে পাঁচ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেয়। এছাড়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৫ জনকে দেওয়া হয় দশ বছরের দণ্ড। খালেদা জিয়ার সাজা বৃদ্ধির দুদকের আবেদন গ্রহণ করে হাইকোর্ট ৫ বছরের পরিবর্তে দশ বছরের দণ্ড দেয়। একইসঙ্গে অপর আসামিদের দশ বছরের সাজাও বহাল রাখে উচ্চ আদালত।