শপথ গ্রহণের বিষয়ে ড. কামালের দিকে তাকিয়ে দলের দুই এমপি

জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড. কামাল হোসেন চিকিত্সা শেষে সিঙ্গাপুর থেকে আজ মঙ্গলবার সকালে দেশে ফিরছেন। তার সঙ্গে আলোচনা করে সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়া না নেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন ৩০ ডিসেম্বরের নির্বাচনে দলটির দুই বিজয়ী নেতা সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ ও মোবাক্কির খান। হাঁটুর সমস্যায় উন্নত চিকিত্সার জন্য গত ১৯ জানুয়ারি সিঙ্গাপুর যান ড. কামাল।

সুলতান মনসুর জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে একাদশ সংসদ নির্বাচনে মৌলভীবাজার-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন। আর মোকাব্বির খান সিলেট-২ আসন থেকে নির্বাচিত হন গণফোরামের দলীয় প্রতীক ‘উদীয়মান সূর্য’ মার্কায়। ঐক্যফ্রন্ট গঠনের আগ পর্যন্ত সুলতান ছিলেন ড. কামালের নেতৃত্বাধীন পুরনো জোট জাতীয় ঐক্য প্রক্রিয়ার কেন্দ ীয় সদস্য। তবে একাদশ সংসদ নির্বাচনে তিনি গণফোরামের দলীয় মনোনয়নে প্রার্থী হন।

নির্বাচনের আগেই সুলতান মনসুর যে গণফোরামের সদস্যপদ গ্রহণ করেন সেটির একটি কপি ফেসবুকে প্রচার করেছেন গণফোরামের কেন্দ ীয় নেতা রফিকুল ইসলাম পথিক। ড. কামাল স্বাক্ষরিত ওই সদস্য ফরমে দেখা যায়, গত বছরের ১০ নভেম্বর সুলতান দলটির সদস্য পদ নিয়েছেন। ফরমে সুলতানেরও স্বাক্ষর রয়েছে। ফলে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে এমপি হিসেবে শপথ নিতে গেলে আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন সুলতান ও মোকাব্বির। তিনি শুধু গণফোরামের সদস্য ও দলীয় প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ায় তার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবে দল। তবে সুলতান ‘ধানের শীষ’ প্রতীকে নির্বাচিত হওয়ায় সেক্ষেত্রে বিএনপিরও অনুমোদন প্রয়োজন হবে। অন্যথায় ভবিষ্যতে বিএনপি বিষয়টি নিয়ে আদালতে চ্যালেঞ্জ করতে পারে। এদিকে, আগামীকাল বুধবার শুরু হতে যাচ্ছে একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন। সংবিধান অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম দিন থেকে পরবর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচিত যে কেউ এমপি হিসেবে শপথ নিতে পারেন। অন্যথায় তাদের আসন শূন্য হতে পারে। তবে নির্বাচিত কেউ যদি স্পিকারকে অবহিত করে শপথ নিতে আরও সময় চান তাহলে তা অনুমোদনের এখতিয়ার তার রয়েছে।

সুলতান মনসুর ইত্তেফাককে বলেন, ড. কামাল হোসেন দেশে ফিরলে তার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আর মোকাব্বির ইত্তেফাককে বলেন, দলের সভাপতি ফিরলে তার নির্দেশনা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেব। দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে কিছু করব না।