২০১৫ সালে পাচার হয়েছে ৫৯১ কোটি ডলার

আমদানি-রপ্তানিতে মিথ্যা ঘোষণার মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে ২০১৫ সালে ৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার অর্থ পাচার হয়েছে। টাকার অংকে যার পরিমাণ প্রায় ৫০ হাজার কোটি টাকা।

ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টিগ্রিটিন (জিএফআই) গতকাল সোমবার অবৈধ অর্থপ্রবাহের এই গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। ১৪৮টি দেশের বাণিজ্যের তথ্য বিশ্লেষণ করে বলা হয়েছে, অঞ্চলভিত্তিক অর্থ পাচারের শীর্ষ ত্রিশ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ। প্রায় দশ বছর ধরে জিএফআই অর্থ পাচারের ওপর গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ করে আসছে। এবারের প্রতিবেদনটি আগেরগুলোর তুলনায় ভিন্নভাবে তৈরি করা হয়েছে। তাদের হিসেবে উন্নয়নশীল বিশ্বে বাণিজ্যের প্রায় ২০ ভাগ অর্থ পাচার হচ্ছে। অর্থ পাচারের পাশাপাশি অবৈধভাবে কী পরিমাণ অর্থ দেশের ভেতরে এসেছে, সেই তথ্যও প্রতিবেদনে দেওয়া রয়েছে। দুটি পদ্ধতিতে (মেথডলজি) তৈরি করা হিসেবে অর্থপাচারের ভিন্ন তথ্য এসেছে। ডটস পদ্ধতির হিসেবে (সকল দেশের সমন্বিত তথ্য ব্যবহার করে) বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থের পরিমাণ উল্লেখ করা হয়েছে ৫৯১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। ২০১৫ সালে পাচার হয়ে দেশে এসেছে ২৩৬ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অন্যদিকে কমট্রেড পদ্ধতির হিসেবে (দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের তথ্য ব্যবহার করে) ২০১৫ সালে পাচার হয়েছে ২৬৬ কোটি ৬০ লাখ ডলার। এই পদ্ধতির হিসেবে বাংলাদেশে এই সময়ে ২৭৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার পাচার হয়ে এসেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য কমট্রেড পদ্ধতিতে করা হিসেবে সকল দেশের তথ্য সন্নিবেশ করা হয়নি।

উল্লেখ্য, গবেষণা পদ্ধতির পরিবর্তনের কারণে জিএফআই এবারের প্রতিবেদনে দেশগুলোর সময়ভিত্তিক অর্থপাচারের তথ্য প্রকাশ করেনি। আগের প্রতিবেদনগুলোতে দেশগুলোর সময়ভিত্তিক অর্থপাচারের তথ্য থাকলেও কোনো র্যাংকিং ছিল না। এবারের প্রতিবেদনে শীর্ষ ত্রিশটি দেশের বিশ্লেষণ দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে মুদ্রা পাচারের বিষয়ে মন্তব্য জানতে চাইলে বিশ্বব্যাংকের ঢাকা অফিসের প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেন ইত্তেফাককে বলেন, ২০১৫ সালের শুরুর দিকে দেশে কিছুটা অস্থিতিশীলতা লক্ষ্য করা গেছে যার কারণে বড় অংকের মুদ্রা পাচার হয়ে থাকতে পারে। অবশ্য দেশের অভ্যন্তরে বড় অংকের মুদ্রা পাচার হয়ে আসার বিষয়টি খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

মন্তব্য জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) জ্যেষ্ঠ ফেলো গবেষক ড. তৌফিকুল ইসলাম খান ইত্তেফাককে বলেন, অনেক সময় আমদানিতে মিথ্যা ঘোষণা ছাড়াও রপ্তানিতে দেওয়া সুবিধা আদায়ের জন্য বেশি দাম দেখিয়ে বাণিজ্য করা হয়। তাছাড়া হুন্ডির মাধ্যমেও বড় অংকের অর্থ দেশে আসে। যার ফলে মুদ্রা পাচারের পাশাপাশি দেশেও পাচার হয়ে বড় অংকের মুদ্রা আসছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

 উল্লেখ্য, জিএফআই প্রতিষ্ঠানটির আগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল ২০১৪ সালে বাংলাদেশ থেকে ৬শ’ থেকে ৯শ’ কোটি ডলারের মতো পাচার হয়েছে। ২০১৩ সালে ৯৬৬ কোটি ডলার পাচারের তথ্য ছিল। সে হিসেবে অর্থ পাচার কমেছে।