উত্তরপ্রদেশে মায়াবতী ও যাদবের জোট হলে বিপাকে পড়বে বিজেপি

উত্তরপ্রদেশে মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি ও অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি জোট করলে তা বিজেপির মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। কারণ এই জোট লোকসভা নির্বাচনে একসঙ্গে লড়লে বিজেপি জোট থমকে যেতে পারে ২৩৩ আসনের আশপাশে।

ভারতের লোকসভায় আসন ৫৪৩টি। আর ক্ষমতায় যেতে ম্যাজিক ফিগার লাগবে ২৭২ টি। অন্যদিকে, স্বস্তিতে নেই জাতীয় কংগ্রেসও। ভোট অনেকটাই বাড়লেও তাদের জোট থমকে যেতে পারে ১৬৭ আসনে। আর আঞ্চলিক দলগুলো পেতে পারে ১৪৩ আসন। এককভাবে বিজেপি ২০৩ এবং কংগ্রেস ১০৯টি আসন পেতে পারে। এমনটাই বলছে ইন্ডিয়া-টুডে—কার্ভি—ইনসাইট এবং এবিপি-সি ভোটারের সমীক্ষা।

২০১৪ সালের  লোকসভা নির্বাচনে উত্তরপ্রদেশে ৮০ আসনের মধ্যে ৭৩টি জিতেছিল বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ। তখন মায়াবতীর বহুজন সমাজবাদী পার্টি এবং অখিলেশ যাদবের সমাজবাদী পার্টি লড়েছিল আলাদা। পেয়েছিল মাত্র ৫টি। সমীক্ষা বলছে এই দুই দল একসঙ্গে লড়লে পাবে ৫১ আসন। আর ৪৮ আসন খুঁইয়ে বিজেপি  পেতে পারে ২৪টি। প্রিয়াঙ্কা গান্ধী কংগ্রেসের হাল ধরলেও তারা পেতে পারে ৪টি আসন। গতবার দলটি পেয়েছিল মাত্র ২টি।

বিজেপির আসন কমবে মহারাষ্ট্রেও। ৪৮ আসনের মহারাষ্ট্রে কংগ্রেস ও এনসিপি জোট করলে পাবে ২৮ আসন। বিজেপি ১৬ এবং শিবসেনা  ৪টি। গতবার বিজেপি—শিবসেনা জোট পেয়েছিল ৪১টি আসন। এছাড়াও গুজরাট, মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, ছত্তিশগড়ে আসন কমবে বিজেপির। দক্ষিণ ভারতে ১২৯টি আসনের মধ্যে তারা পেতে পারে মাত্র ১৪টি। গতবার পেয়েছিল ৩৮ আসন। তাদের একমাত্র লাভের জায়গা হতে পারে পূর্ব ভারত। সমীক্ষা বলছে ওড়িশায় বিজেপি ২১ এর মধ্যে ১২, পশ্চিমবঙ্গে ৪২ এর মধ্যে ৭, উত্তরপূর্ব ভারতের ২৫টির মধ্যে ১৪টি।  গতবার উত্তরপূর্বে ১০টি পেয়েছিল বিজেপি।

এত কিছুর পরও কিন্তু জাতীয় কংগ্রেস জিতবেই এমন আশা করা যাচ্ছে না। সমীক্ষা বলছে ভোট বাড়িয়ে ৩২ শতাংশের মতো পেলেও ১৬৭  আসনে আটকে যেতে পারে জাতীয় কংগ্রেস। সেক্ষেত্রে তাদের আঞ্চলিক দলগুলোর মুখাপেক্ষী হয়ে থাকতে হবে। কারণ ভারতের রাজনীতিতে আঞ্চলিক দলগুলোর রমরমা। ভারতের ৯টি রাজ্যে আঞ্চলিক দলগুলো ক্ষমতায় রয়েছে। এখানে আসন রয়েছে ১৭২টি। এছাড়াও মহারাষ্ট্র, বিহার, উত্তরপ্রদেশে আঞ্চলিক দলগুলোর রমরমা। এই তিন রাজ্যে রয়েছে ১৬৮ আসন। কাজেই এনডিএ বা কংগ্রেস জোট যারাই আঞ্চলিক দলগুলোকে বেশি কাছে টানতে পারবে তারাই ভারতে সরকার গঠনের দিকে এগিয়ে যাবে। অর্থাত্ যে পক্ষই সরকার গড়ুক, রাশ থাকবে আঞ্চলিক দলগুলোর হাতেই।