টাকা পয়সার লেনদেন নিয়ে বিবাদ বাঁধে চাঁন মিয়া ও জিতুর বাবা আলামিনের মধ্যে। টাকা পেতে চাঁন মিয়া শিশু জিতুকেই ঢাল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেন। অবশেষে কয়েকজনের সহযোগিতায় অপহরণের মতো জঘন্য কাজে জড়িয়ে পড়েন চাঁন মিয়া। শিশু জিতুকে জুসের ভেতরে চেতনা নাশক খাইয়ের অপহরণ করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর থেকে অপহরণ করা শিশু জিতু মিয়াকে (১৩) ময়মনসিংহ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। মঙ্গলবার ভোরে ময়মনসিংহ সদর থেকে তাকে উদ্ধার করে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের সদস্যরা। এ ঘটনায় আটক করা হয় সাতজন অপহরণকারীকে। দুপুর সাড়ে ১২টায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে র্যাব-১৪ ভৈরব ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার রাফিউদ্দীন মোহাম্মদ যোবায়ের এ তথ্য জানান।
আটককৃতরা হলেন- ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া উপজেলার খরমপুর গ্রামের লোকমান হোসেন (৪০), একই গ্রামের ফোরকান খাদেম (৩০), ময়মনসিংহ সদর উপজেলার চক ছত্তরপুর গ্রামের মো. চাঁন মিয়া (৩২), কেরয়াটখালী গ্রামের আজিজুল হাকিম (২২), তারাকান্দা উপজেলার শিমুলতলী গ্রামের খায়রুল ইসলাম (২২), ত্রিশাল উপজেলার কুইষ্টা গ্রামের আলমগীর হোসেন (২২) ও ধোবাউড়া উপজেলার এরশাদ আলী (২৫)।
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিন সরকারের পদত্যাগ
র্যাব জানায়, ২৫ জানুয়ারি বিজয়নগর উপজেলার কাশিমপুর গ্রামের আল আমিনের ছেলে জিতু মিয়া বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয়। নিখোঁজের দুইদিন পর অপহরণকারী দলের সদস্যরা জিতুর বাবাকে ফোন করে তিন লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে। বিষয়টি র্যাবকে অবহিত করা হলে র্যাব সদস্যরা সোমবার রাত ৯টার দিকে দুর্জয় মোড় থেকে অপহরণকারী দলের সদস্য লোকমান ও ফোরকানকে আটক করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে মঙ্গলবার ভোর ৪টার দিকে ময়মনসিংহ সদরের কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ সংলগ্ন একটি বাড়ি থেকে অপহৃত জিতুকে উদ্ধার করা হয়। এ সময় আরও পাঁচ অপহরণকারীকে আটক করা হয়। এ অপহরণের ঘটনার মাস্টার মাইন্ড চাঁন মিয়া। জিতুকে খরমপুর গ্রাম থেকে চেতনানাশক জুস খাইয়ে ময়মনসিংহে নিয়ে যায় বলে জানায় চাঁন মিয়া।
ইত্তেফাক/অনি