যশোরের চৌগাছা উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সম্ভাব্য চেয়ারম্যান এবং ভাইস চেয়ারম্যান পদের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা করছেন অনেকেই। দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশায় ঢাকা পর্যন্ত নেতাদের বাসায় কিংবা দলীয় অফিসে রীতিমত দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন মনোনয়ন প্রত্যাশীরা। তবে এ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা সরব থাকলেও মাঠে নেই বিএনপি-জামায়াতের কোনো নেতা-কর্মী। একমাত্র আওয়ামী লীগের নেতারা দলের হাইকমান্ডে যেমন যোগাযোগ রাখছেন, তেমনি তৃণমূলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে দেখা যাচ্ছে। এছাড়া জাতীয় পার্টি (এরশাদ) নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে বলে দলের উপজেলা সাধারণ সম্পাদক নূরুল কদর জানিয়েছেন।
বর্তমান উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থী হতে ইচ্ছুক অনেকে আবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন ও দোয়া কামনা করে স্ট্যাটাস দিচ্ছেন। তবে যারা স্ট্যাটাস দিচ্ছেন তার সবাই আওয়ামী লীগ ঘরনার। আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীক মনোনয়ন প্রত্যাশী যে সকল নেতা-কর্মী আলোচনায় আসছেন তাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান মুক্তিযোদ্ধা এসএম হাবিবুর রহমান।
এদিকে দলের উদীয়মান তরুণ নেতা বর্তমান উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ১নং ফুলসারা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মেহেদি মাসুদ চৌধুরী আগামী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নিজেকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হওয়ার স্বপ্ন দেখছেন। যিনি এ ব্যাপারে দলের হাইকমান্ডের কাছে নিজেকে তুলে ধরেছেন এবং একজন শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে তার সমর্থকরা মনে করছেন। অন্যদিকে উপজেলা যুবলীগের আহবায়ক এবং বর্তমান উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান দেবাশিষ মিশ্র জয় তিনিও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে মনোনয়ন প্রত্যাশী। যদি তিনি চেয়ারম্যান পদে মনোনীত না হন সে ক্ষেত্রে ভাইস চেয়ারম্যান পদেই পুনরায় প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
এছাড়া জগদীশপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আওয়ামী লীগ নেতা তবিবুর রহমান খানের নামও আলোচনায় আসছে। সবার থেকে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী বলে মনে করছেন।
অপরদিকে বিশ দলীয় জোট ও ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় ইতিবাচক সিদ্ধান্ত হলে সে ক্ষেত্রে উপজেলা বিএনপির সভাপতি জহুরুল ইসলাম উপজেলা চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন বলে দলীয় সূত্র জানিয়েছে। যদি নির্বাচনে বিএনপি-জামায়াত না আসে সে ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগই আওয়ামী লীগের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে নির্বাচন করবেন অনেক নেতা।
এছাড়া জাতীয় পার্টি (এরশাদ) উপজেলা সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক স্বরূপদহ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান নূরুল কাদের উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করবেন বলে জানিয়েছেন।
এদিকে আওয়ামী লীগ সমর্থিত এক ডজন প্রার্থী ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হবেন বলে নেতাদের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলার পাশাপাশি বিভিন্ন স্থানে সভা-সমাবেশে যোগদান করছেন। ভাইস-চেয়ারম্যান পদে প্রত্যাশী প্রার্থী হলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সাত্তার, চৌগাছা পৌরসাভার ৪নং ওয়ার্ডের সদ্য পদত্যাগী কাউন্সিল সিদ্দিকুর রহমান, ফারহানা টাওয়ারের মালিক সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা জসিম উদ্দীন, ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি শরিফুল ইসলাম, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শামিম রেজা, সিংহঝুলি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি শামসুর রহমান টিয়ে ও সাধারণ সম্পাদক আবুল কাশেম।
মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান পদে আলোচনায় রয়েছেন চৌগাছা উপজেলা যুব মহিলা লীগের সভানেত্রী ও দুবার ব্যালট যুদ্ধে নির্বাচিত বর্তমান উপজেলা পরিষদের মহিলা ভাইস-চেয়াম্যান আকলিমা খাতুন লাকি, সহ-সভাপতি ও ধুলিয়ানী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আতিয়ার রহমানের স্ত্রী রিপা রহমান, সাধারণ সম্পাদিকা নাসিমা আক্তার, যুগ্ম সম্পাদিকা নাজনিন নাহার, উপজেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদিকা কামরুন নাহার শাহিনা ও চৌগাছা পৌরসভার মহিলা কাউন্সিলর জোসনা খাতুন।