রংপুরের আলোচিত পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট রথীশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনা হত্যা মামলায় তার স্ত্রী দীপা ভৌমিক ওরফে স্নিগ্ধাকে মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালত । রায় ঘোষণার সময় এজলাস কক্ষে উপস্থিত দীপা ছিলেন অনেকটা স্বাভাবিক। মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) দুপুরে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিনিয়র বিচারক এবিএম নিজামুল হক এ আদেশ দেন।
এর আগে সকাল সাড়ে নয়টার দিকে মামলার প্রধান আসামি দীপা ভৌমিক ওরফে স্নিগ্ধাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জেলা দায়রা জজ আদালতে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে এজলাস কক্ষে নিয়ে যাওয়ার পর রায়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে আসামীর উপস্থিতি রায় পড়ে শোনান বিচারক। রায় ঘোষণা শেষে দুপুর ১টা ৯ মিনিটে আদালত চত্বর থেকে তাকে রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হয়।
মামলার পিপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মালেক সাংবাদিকদের বলেন,‘এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই দ্রুত রায় কার্যকর করা হোক।’
মামলার বাদী আইনজীবী বাবু সোনার ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিক বলেন, ‘আমরা এ রায়ে খুশি। যদিও আমাদের ভাইকে আর ফেরত পাবো না।’
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ-ভারত গণমাধ্যম সহযোগিতা বৃদ্ধি পাবে: তথ্যমন্ত্রী
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৯ অক্টোবর স্নিগ্ধা রানী সরকার দীপা তার সহকর্মী প্রেমিক কামরুল ইসলাম মাস্টারের পরিকল্পনায় দুধের সাথে ১০টি ঘুমের ট্যাবলেট খাইয়ে রথীশ চন্দ্রকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপর তার লাশ তাজহাট মোল্লাপাড়ায় কামরুলের ভাইয়ের নির্মাণাধীন বাড়ির পরিত্যক্ত ঘরের মেঝেতে পুঁতে রাখেন। ৩ এপ্রিল স্নিগ্ধা সরকারকে জিজ্ঞাসাবাদে গর্তে পুঁতে রাখা অবস্থায় বাবু সোনার লাশ উদ্ধার করা হয়। ৩৭ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে ২১ জানুয়ারি উভয়পক্ষের যুক্তিতর্কের পর মঙ্গলবার (২৯ জানুয়ারি) রায় ঘোষণা করেন আদালত।
মামলার অপর আসামী কামরুল ইসলাম মাস্টার গত বছরের ১০ নভেম্বর কারাগারে বন্দি থাকা অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন।
ইত্তেফাক/অনি