শৈলকুপায় নতুন উঠা মুড়িকাটি পিঁয়াজের দরপতনে চাষির মাথায় হাত। বর্তমানে হাট-বাজারে প্রতিমণ পিঁয়াজ পাইকারি সাড়ে ৩শ টাকা থেকে ৪শ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা জানান, এ দামে পিঁয়াজ বিক্রি করে উত্পাদন খরচ উঠছে না।
দেশের অন্যতম প্রধান পিঁয়াজ উত্পাদনকারী এলাকা ঝিনাইদহের শৈলকুপা উপজেলা। এ উপজেলায় বছরে দুবার পিঁয়াজ চাষ হয়। অক্টোবর মাসে মুড়িকাটি পিঁয়াজের চাষ শুরু হয়। এ পদ্ধতিতে ছোট সাইজের গোটা পিঁয়াজ রোপণ করা হয়। ডিসেম্বর মাসে এ পিঁয়াজ উঠতে শুরু করে। আবার ডিসেম্বর মাসে থেকে বীজ থেকে চারা তৈরি করে পিঁয়াজ রোপণ করা হয়। এ জাতের পিঁয়াজ বেশি চাষ হয়। মার্চ মাসের প্রথমে এ পিঁয়াজ উঠতে শুরু করে। গত মৌসুম থেকেই পাইকারি বাজারে পিঁয়াজের দাম কম। গত বছর নতুন পিঁয়াজ উঠার পর প্রতিমণের দাম ছিল ৭শ টাকা থেকে ৯শ টাকার মধ্যে। স্বল্প কয়েকদিনের জন্য দাম চড়ে ছিল। ফের দাম পড়ে ৭/৮শ টাকা হয়েছিল। মুড়িকাটি পিঁয়াজ উঠার পর দাম আরো পড়ে গেছে।
গতকাল মঙ্গলবার শৈলকুপা পাইকারি পিঁয়াজ হাট ঘুরে দেখা যায় প্রচুর পিঁয়াজ উঠেছে। বিভিন্ন স্থান থেকে আসা বেপারি সাড়ে ৩শ-৪শ টাকা মণ দরে পিঁয়াজ কিনে ট্রাকযোগে চালান নিয়ে যাচ্ছে। চরসোনাদহ গ্রামের চাষি ওয়াজেদ আলী জানান, সাড়ে ৩শ-৪শ টাকা মণ দরে পিঁয়াজ বিক্রি করে চাষির লাভ থাকে না। কাতলাগাড়ি গ্রামের চাষি আবুল কালাম জানান, ২৪ কাঠা জমিতে মুড়িকাটি পিঁয়াজ চাষ করেছেন। অর্ধেক জমির পিঁয়াজ তুলে বিক্রি করেছেন। খরচের টাকা উঠেনি। ক্ষেত থেকে আর পিঁয়াজ তুলছেন না। এদিন হাটে কমপক্ষে ৩ হাজার মণ পিঁয়াজ উঠে। পিঁয়াজের পাশাপাশি রসুনের দামও কম। প্রতিমণ ৪শ টাকা থেকে সাড়ে ৪শ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। ওই হাটে খুচরা প্রতি কেজি পিঁয়াজ ২০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা যায়। আর রসুন বিক্রি হয় ২৫ টাকা কেজি দরে। ব্যবসায়ী রেজাউল ইসলাম জানান, পিঁয়াজ-রসুনের চাহিদা নেই। চাষিদের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদেরও লোকসান হচ্ছে।
শৈলকুপা উপজেলা কৃষি অফিসার সঞ্জয় কুমার কুণ্ডু জানান, এবার এ উপজেলায় ৬ হাজার ১৫০ হেক্টরে পিঁয়াজ চাষ হয়েছে, ফলন ভাল। দাম কমে যাওয়ায় চাষি খুশি নয়। এবার শৈলকুপা উপজেলায় এক লাখ টন পিঁয়াজ উত্পাদন হবে বলে তিনি আরো জানান।