সারাদেশের ন্যায় কুষ্টিয়ায় গতকাল মঙ্গলবার থেকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) মাস্টাররোলে কর্মরতদের চাকরি আত্তীকরণ এবং এ সংক্রান্ত হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে কুষ্টিয়ায় কর্মচারীদের লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হয়েছে। কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসাবে কুষ্টিয়া এলজিইডি কার্যালয় চত্বরে ৭৮ জন মাস্টাররোল কর্মকর্তা-কর্মচারী সভা-সমাবেশসহ কর্মবিরতি পালন করেন। জানা যায়, কুষ্টিয়াসহ সারাদেশে তিন হাজার ৮৩৪জন কর্মচারী ১০-২৫ বছর পর্যন্ত মাস্টাররোল ও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে কর্মরত আছেন। এদের মধ্যে কুষ্টিয়ায় গাড়ি চালক, রোলার চালক, অফিস সহকারী, হিসাব সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, অফিস সহায়ক ও গার্ড পদে কর্মচারীর সংখ্যা হচ্ছে ৭৮ জন। ভুক্তভোগী কর্মচারীরা জানান, কর্মচারীদের আত্তীকরণের বিষয়ে ২০১০ সালে হাইকোর্টে রিট পিটিশন করা হয়। হাইকোর্ট ২০১২ সালের ১ অক্টোবর মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীদের পক্ষে রায় ঘোষণা করেন এবং তাদের চাকরি আত্তীকরণের নির্দেশনা প্রদান করেন। পরবর্তীতে উচ্চ আদালতের আপিল বিভাগের রায়েও হাইকোর্টের আদেশ বহাল রাখা হয়। উচ্চ আদালতের ওই রায়ের প্রেক্ষিতে তত্কালে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সহকারী সচিব মোহাম্মদ হোসেন এলজিইডি’র প্রধান প্রকৌশলীকে আদালতের নির্দেশনা মতে মাস্টাররোলে বিভিন্ন পদে কর্মরত কর্মচারীদের শূন্য পদে আত্তীকরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পত্র দেন। আদালতের ঘোষিত রায় ও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসারে এলজিইডির তত্কালীন প্রধান প্রকৌশলী ওবাইদুর রহমান দুই দফায় বেশ কিছু সংখ্যক মাস্টাররোলে কর্মরত কর্মচারীদের চাকরি আত্তীকরণ করেন। কিন্তু পরবর্তীতে নানা অজুহাতে মাস্টাররোল কর্মচারীদের চাকরি আত্তীকরণের বিষয়টি বন্ধ রাখা হয়। টানা ১০-২৫ বছর যাবত মাস্টাররোলে কর্মরতদের চাকরি আত্তীকরণ না হওয়ায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কর্মচারীরা জানান, সরকারি ছুটি ব্যতীত ২০/২২ কর্মদিবসে দিন হাজিরা হিসাবে মাসে তারা পান সামান্য পারিশ্রমিক। এ ছাড়া সামান্য পারিশ্রমিকের টাকাও কর্মচারীরা নিয়মিত পান না। কুষ্টিয়া এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এএসএম শাহেদুর রহমান জানান, মাস্টাররোল কর্মচারীদের চাকরি আত্তীকরণে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাসহ আমি নিজেও সহনাভূতিশীল ।