কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে হাতের মেহেদি রং মোছার আগে গৃহবধূকে প্রাণ দিতে হয়েছে শশুরালয়ে। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার সাতবাড়ীয়া ইউনিয়নের সাতবাড়ীয়া গ্রামে। পুলিশ লাশ উদ্ধারে ময়না তদন্তে পাঠিয়েছে।
জানা যায়, সাতবাড়ীয়া গ্রামের নুর আফজাল মোল্লার মেয়ে আছমা আক্তার জেরিনের (১৮) সাথে একই গ্রামের সিরাজ মজুমদারের ছেলে নাজমুল মজুমদারের প্রেম ঘটিত করণে চার মাস আগে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে জেরিনের ননদ মায়া ও ভাসুর কামরুল বিয়ে মেনে নিতে পারছিলেন না। বিয়ের দু’মাস পর নাজমুল সৌদি আরবে চলে যাওয়ার পর থেকে শশুর বাড়ির লোকজন তার উপর মানসিক নির্যাতন করে আসছিল।
সোমবার (২৬ এপ্রিল) রাতে আছমা তার শশুর বাড়িতে শশুর, ভাশুর, ননদ ও জা’র সাথে ধান মাড়াইর কাজ করছিলেন। এসময় জেরিনের বড় ভাই আতিক প্রবাস থেকে ফোন করলে কাজ রেখে ভাইয়ের সাথে কথা বলতে ঘরে চলে যায়। এতে আছমার ভাসুর নাজমুল, ননদ মায়া বেগম ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে মারধর করে গলা টিপে ধরলে ঘটনাস্থলে জেরিন মারা যান। পরে তারা এটিকে আত্নহত্যা বলে অপপ্রচার চালায়। আছমার জেঠা নুরুল হুদা মোল্লা বলেন, তার ভাতিজিকে শশুর বাড়ির লোকজন মারধর করে হত্যা করা হয়েছে। তিনি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন।
নাঙ্গলকোট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী বলেন, এ বিষয়ে থানায় অপমৃত্যু মামলা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট পাওয়ার পর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইত্তেফাক/এসজেড