প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন বলেছেন, একজন সুস্থ মস্তিকের মা কি তার সন্তানকে গলা কেটে হত্যা করতে পারে? আর এ ধরনের একজন অসুস্থ মানুষকে কারাগারে রাখার যৌক্তিকতা কোথায়? নয় মাসের সন্তানকে হত্যার দায়ে অভিযুক্ত ২০ বছর বয়সী এক মায়ের জামিন শুনানিতে তিনি এ মন্তব্য করেন। এরপর প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের ছয় বিচারপতির পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চ মঙ্গলবার সেই মাকে হাইকোর্টের দেয়া জামিন আদেশ বহাল রাখেন।
পারিবারিক কলহ ও সন্তানের বৈধতা নিয়ে স্বামী প্রশ্ন তোলায় গত বছরের ২৮ এপ্রিল নয় মাস বয়সী মাহমুদুল্লাহকে ধারালো চাকু দিয়ে গলা কেটে হত্যা করে মা মুক্তা খাতুন। এ ঘটনায় পরদিন তার স্বামী আব্দুল্লাহ আল মামুন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।
ঐদিনই পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করে। পরে তিনি আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দোষ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তাতে মুক্তা খাতুন বলেছেন, ২০১৭ সালে আমার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই স্বামী যৌতুকের জন্য নির্যাতন করত। শ্বাশুড়িও আমাকে মারধর করত। পারিবারিক কলহ হলে আমার স্বামী খুলনা/বাগেরহাট চলে যেত। ৬/৯ মাস পর আসত। ২০১৯ সালের ১৬ আগস্ট আমার সন্তান মাহিমের জন্ম আমার পিতার বাড়িতে। তখন আমার স্বামী সেখানে ছিলো না।
পরে আমার স্বামী আমাকে বলে, মাহিম তার ঔরসের সন্তান নয়। আমি স্বামীর উপর রাগ করে চাকু দিয়ে রাত ৯টার দিকে মাহিমের গলা কেটে ফেলি। এসময় রক্ত বের হলে আমি বাড়ি থেকে বের হয়ে রাস্তায় আসি আত্মহত্যা করার জন্য। কিন্তু গাড়ি চলছিল না। পরে একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ আমাকে গ্রেপ্তার করে। এই আমার স্বেচ্ছাপ্রণোদিত জবানবন্দি। এই মামলায় হাইকোর্ট আসামিকে জামিন দেয়।
এই জামিন স্থগিত চেয়ে আপিল বিভাগে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল বিশ্বজিত দেবনাথ বলেন, নিজ সন্তানকে হত্যা করেছেন। আর শিশুটির বয়স নয় মাস। এ পর্যায়ে প্রধান বিচারপতি বলেন, এটা কোন সুস্থ মস্তিকের মায়ের পক্ষে সম্ভব নয়। রাষ্ট্রপক্ষের কৌসুলির উদ্দেশ্যে প্রধান বিচারপতি বলেন, ভারতে এক লোক স্বপ্নে দেখে তার সন্তানকে মসজিদের সামনে এনে জবাই করেছে। তখন কলকাতা হাইকোর্টে দু'জন ইংলিশ জাজ ছিলো। তারা ঐ মামলায় সেই ছেলের বাবাকে খালাস করে দেয়। সেখানে বলা হয়েছিলো, সে সুস্থ বা স্বাভাবিক নয়।
এরপর আসামি মুক্তা খাতুনের জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে দেন প্রধান বিচারপতি। এর ফলে তিনি কারামুক্তি পেতে যাচ্ছেন বলে জানান ডিএজি।
ইত্তেফাক/এসআই