নালিতাবাড়ী উপজেলার পোড়াগাঁও ইউনিয়নের ভারত সীমান্তঘেঁষা খলচান্দার গ্রামে গত কয়েক দিন ধরে গভীর রাতে বন্যহাতি দলবেঁধে তাণ্ডব চালিয়ে বোরো ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে। ফলে হাতি আতঙ্কে দিশেহারা হয়ে পড়েছে সীমান্ত জনপদের মানুষ। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হেলেনা পারভীন মঙ্গলবার ইত্তেফাককে বলেন, ইতিমধ্যে হাতি তাড়ানোর জন্য ৫১টি পরিবারে পাঁচ লিটার করে কেরোসিন তেল দেওয়া হয়েছে। এছাড়া কৃষি বিভাগ ফসলের ক্ষতির তালিকা তৈরি করবে। সে অনুযায়ী সরকারি সাহায্যের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, ভারতের সীমান্তঘেঁষা খলচান্দা গ্রামটি নালিতাবাড়ী শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে। ঐ গ্রামে উপজাতি নৃ-গোষ্ঠীর কোচ সম্প্রদায়ের লোকজন ছাড়া অন্যকোনো সম্প্রদায়ের লোকজন বসবাস করে না। কোচ সম্প্রদায়ের লোকজন শান্ত স্বভাবের। কিন্তু গত কয়েক দিন যাবত রাত এলেই তাদের জীবনে নেমে আসে আতঙ্ক। বন্যহাতি তাদের বোরো ফসলসহ অন্যান্য ফসল পায়ে মাড়িয়ে নষ্ট করছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক বকুল কোচ (৩০) বলেন, গভীর রাতে বন্যহাতি তাণ্ডব চালিয়ে ৬০ শতাংশ জমির বোরো ধানক্ষেত খেয়ে ও পা দিয়ে মাড়িয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। বর্তমান বোরো ধানের মৌসুম চলায় প্রায় প্রতি রাতেই ২০-৩০টি বন্যহাতি দল বেঁধে খাবারের সন্ধানে লোকালয়ে নেমে এসে তাণ্ডব চালায়। একই গ্রামের কৃষাণি অমলা কোচনী (৩৫) বলেন, এবার নিয়ে চার বার তার ধানক্ষেত নষ্ট করেছে। পরিমল কোচ (৪০) বলেন, প্রতি মৌসুমেই বন্যহাতির দলবেঁধে গ্রামে হানা দেয়। ধান ও গাছের কাঁঠাল খেয়ে সাবার করে ফেলে। হাতি তাড়ানোর জন্য তেমন সরকারি সাহায্য-সহযোগিতাও পাওয়া যায় না। সরকারিভাবে অল্প পরিমাণে কেরোসিন তেল বিতরণ করা হয়, যা যথেষ্ট নয়।
ইত্তেফাক/এমআর