রাজধানীতে বাড়িভাড়ায় নৈরাজ্য!

বছর ঘুরছে আর বাড়ছে বাড়িভাড়া। অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে, এ নিয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। আবাসনের তুলনায় ঢাকা শহরে জনসংখ্যার চাপ বাড়ছে। এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে বাড়ির মালিকেরা কোনো নিয়মনীতির তোয়াক্কা না করে বাড়িভাড়া বাড়াচ্ছেন। ভাড়াটেরা বাড়ির মালিকদের কাছে রীতিমতো জিম্মি। ভাড়াটিয়াদের দুর্ভোগ দেখার কেউ নেই! ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন ‘কনজ্যুমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের’ (ক্যাব) হিসেবে গত ২৫ বছরে রাজধানীতে বাড়িভাড়া বেড়েছে প্রায় ৩৮৮ শতাংশ। অথচ একই সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে ২০০ শতাংশ। অর্থাত্ নিত্যপণ্যের দামের তুলনায় বাড়িভাড়া বৃদ্ধির হার প্রায় দ্বিগুণ। 

রাজধানীতে ৭০ থেকে ৮০ শতাংশ মানুষ ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। এদের বেশিরভাগই নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষ। মোট আয়ের একটা সিংহভাগ বাড়িভাড়ায় চলে যায়। এলাকাভেদে প্রত্যেক বছর এমনকি বছরের মাঝামাঝি সময়েও ৫০০ থেকে ৫০০০ টাকা পর্যন্ত বাড়িভাড়া বাড়ানো হয়। বেশিরভাগ ভাড়াটের আয় বৃদ্ধির হারের থেকে বাড়িভাড়া বৃদ্ধির এ হার অনেক বেশি। প্রশ্ন হলো, বাড়িভাড়া নিয়ে রাজধানীতে যে অরাজকতা চলছে তার অবসান হবে কবে?

বর্তমানে প্রচলিত ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন’টি ১৯৯১ সালের। অত্যন্ত দুঃখের বিষয়, সরকার এখনো এই আইনের বিধিমালা করেনি। নেই আইনের প্রয়োগও। ‘বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ আইন-১৯৯১’ কার্যকর করতে ২০১০ সালে এক মানবাধিকার সংগঠনের রিটের সূত্র ধরে সর্বোচ্চ আদালত বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ কমিশন গঠনের কথা বলেছিলেন। কিন্তু তা এখনো হয়নি। আর বাড়িভাড়া নিয়ন্ত্রণ কাজটি সরকারের কোন সংস্থার বা প্রতিষ্ঠানের তা এখনো ধোঁয়াশার মধ্যে রয়ে গেছে। দুই সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ বিদ্যমান বাড়িভাড়া আইন সংস্কারের মাধ্যমে যুগোপযোগী করে এবং এর সঙ্গে সমন্বয় সাধন করে এলাকাভেদে কিংবা ওয়ার্ডভিত্তিক বাড়িভাড়া নির্ধারণের উদ্যোগ নিতে পারেন।

সাধন সরকার

ছাত্র, ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা