ব্রেক্সিট সংকট:‘শেষ দেখে ছাড়ার’ হুমকি ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর

কয়েকজন মন্ত্রীর তীব্র বিরোধিতা ও পদত্যাগ সত্ত্বেও ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে নিজের অবস্থানে অনড় রয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী থেরেসা মে। তিনি তার পরিকল্পনায় সকলের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যাবেন মন্তব্য করে পরিস্থিতির ‘শেষ দেখে ছাড়ার’ ঘোষণা দিয়েছেন। অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার তার মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকজন মন্ত্রী পদত্যাগ করলেও বর্তমান মন্ত্রিসভার বাকি সদস্যরা প্রধানমন্ত্রীকে সমর্থন জানিয়েছেন। আর থেরেসা মে’র বিরুদ্ধে অনাস্থা ভোটের প্রস্তাব নিয়ে যে তোড়জোড় শুরু হয়েছে শেষ পর্যন্ত তা সফল হবে না বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

বৃহস্পতিবার চুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায় করতে গিয়ে চরম বিরোধিতার মুখোমুখি হওয়া থেরেসা এবার মরিয়া হয়ে মাঠে নেমেছেন। নেতৃত্ব নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যেই গতকাল এক সংবাদ সম্মেলনে হাজির হন তিনি। খসড়া চুক্তির পক্ষে নানা যুক্তি তুলে ধরে তিনি বলেন, নিজের শরীরের সব অস্থিমজ্জা দিয়ে তিনি বিশ্বাস করেন যে, এটি সর্বোচ্চ কল্যাণকর চুক্তি। এর শেষ না দেখে হাল ছাড়বেন না। শুক্রবার ভোরবেলা রাজনৈতিক আলোচনার জন্য তিনি হাজির হন জনপ্রিয় রেডিও স্টেশন এলবিসি’তে। সেখানে শ্রোতাদের সরাসরি প্রশ্নের জবাব দেন মে।

দীর্ঘ দুই বছর সমঝোতার পর ইইউ থেকে বিচ্ছেদ (ব্রেক্সিট) প্রশ্নে একটি খসড়া চুক্তিতে সম্মত হয় উভয় পক্ষ। কিন্তু এই চুক্তি যুক্তরাজ্যের স্বার্থবিরোধী বলে আপত্তি উঠেছে। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ দল থেকেই বিরোধিতা হচ্ছে বেশি। আর ক্ষমতাসীন দলের ব্রেক্সিটপন্থি অন্তত ৫১ জন এমপিও শেষ পর্যন্ত এই চুক্তির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। ফলে এই চুক্তি পাস হওয়া নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সে ক্ষেত্রে বিচ্ছেদ কার্যকরের সময়সীমা পিছিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুনরায় সমঝোতার প্রয়োজন হতে পারে।