তিনি কাঁদেন, কেন কাঁদেন—অশ্রু আসে নেমে,
কিসের দুঃখ, পাস করেছেন তিনি ডবল এমএ।
চাকরি ছেড়ে ঢাকা এলেন কবি হওয়ার জন্য,
মফস্বলে কবি বলে যায় না হওয়া গণ্য।
দৈনিকে তার চাকরি হলো : লেখালেখির কর্ম,
তার লেখা সব ভালোই লাগে বুঝলে পরে মর্ম।
পত্রিকাতে চাকরি করা—সে এক অজব কারবার,
কবি সাহেব চলার পথে বেকার হলেন বারবার।
বেকার হয়ে মাঝে মাঝে করুণ হতো হালচাল,
ঘরে তখন থাকত না তার রেঁধে খাওয়ার ডালচাল।
সেই কবিরই ছাপা হলো বারোখানা কাব্য,
মহান কবির সৃষ্টি নিয়ে আমরা সবাই ভাবব।
হলেন তিনি উচ্চমানের পুরস্কারে ভূষিত,
সবাই শুধান, কবি ভায়া আপনি এখন খুশি তো!
যা চেয়েছেন, তা পেয়েছেন—এই কথাটাই মুখ্য,
কবি খ্যাতি অনেক পেলেন কিসের আবার দুঃখ।
কবি তখন বিষণ্ন খুব—ভেঙে নীরবতা
সামনে খানিক তাকিয়ে থেকে বলে ওঠেন কথা,
খ্যাতি পেলাম, হাতে এখন পাচ্ছি কত টাকা,
তবুও হায় বুকটা আমার করছে কেবল খাঁ-খাঁ।
কাব্যসেবার মূল্য আমায় দিতে হলো চড়া,
বাবার সেবা, মায়ের সেবা আর হলো না করা।
কবেই তাঁরা বিদায় নিলেন, ভাগ্য আমার মন্দ,
বাবার হাতে টাকা দেয়ার পেলাম না আনন্দ।