অ্যাথলেটদের জীবনটাই এমন। যখন সাফল্য থাকবে, তখন তারা থাকবেন সাত আসমানে। তাদের প্রতি থাকবে গণমাধ্যমের আগ্রহ, তাদের চারপাশে থাকবে ভক্তদের ভিড়। তবে একবার খেলা ছেড়ে দেওয়া মানেই সব কিছুর অবসান, এক ধাক্কায় আকাশ থেকে মাটিতে নেমে আসার জীবনের সূচনা। এই বাস্তবতাকে মেনে নিতে পারাটা সব অ্যাথলেটদের জন্যই কষ্টকর।
উসাইন বোল্টকেও এই বাস্তবতা মেনে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন সাবেক অলিম্পিক চ্যাম্পিয়ন মাইকেল জনসন। তিনি মনে করেন, বোল্টের জন্য এখনই খেলার মাঠের বাইরে অন্য কোনো কিছুতে নিজেকে জড়ানোর আদর্শ সময়।
যুক্তরাষ্ট্রোর সাবেক অ্যাথলেট জনসন বলেন, ‘আমি এই পরামর্শটাই সবাইকে দেই। যেকোনো অ্যাথলেটেরই খেলোয়াড়ি জীবন শেষ করার পর এই বাজে সময়টা আসে। তাই বোল্টকে বলবো, মাঠের বাইরের কোন একটা আগ্রহের জায়গা খুঁজে বের করো। অন্য কিছু একটা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যাও।’
আটবারের অলিম্পিক সোনাজয়ী বোল্ট এখনো ১০০ এবং ২০০ মিটারের সেরা টাইমিংয়ের রেকর্ড জয়ী। ২০১৭ সালে ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডের ক্যারিয়ারে ইতি টানা বোল্ট এরপর নিজের ‘পুরনো প্রেম’ ফুটবলে মনোনিবেশ করেন। অস্ট্রেলিয়ান দল সেন্ট্রাল কোস্ট মেরিনার্সের হয়ে মাস দুয়েক অনুশীলন করা বোল্ট। আর সেটা করতে গিয়েই তিনি বুঝে ফেলেছেন, পেশাদার ফুটবলে নিয়মিত হওয়াটা তার পক্ষে সম্ভব নয়। সেজন্যই সপ্তাহখানেক আগে বোল্ট জানান, তার খেলোয়াড়ি জীবনের এখানেই ইতি।
বোল্ট বলেছিলেন, এখন ব্যবসায়ী হিসেবে ক্যারিয়ার গড়তে চান তিনি। তিনি বলেন, ‘অনেক কিছুই আছে পাইপলাইনে। সব কিছুই চেষ্টা করছি। আশা করি, একজন ভাল ব্যবসায়ী হওয়ার চেষ্টা করবো।’
অ্যাথলেট হিসেবে ক্যারিয়ারে তিনি বিপুল পরিমাণে অর্থ উপার্জন করেছেন। ফোর্বস ম্যাগাজিনের হিসাব বলছে, প্রতি বছর কম করে হলেনও ২০ মিলিয়ন ডলার জমা হত বোল্টের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে। এর মধ্যে বড় একটা অংশই আসতো স্পন্সর ও অন্যান্য বাণিজ্যিক খান থেকে। এর মধ্যে বোল্টের সবচেয়ে বড় স্পন্সর ছিল পুমা। প্রতি বছর বোল্টকে তারা দিতো ১০ মিলিয়ন ডলার।
ফলে, সেই জমানো অর্থটা বড় কোনো ব্যবসায় বোল্ট চাইলেই বিনিয়োগ করতে পারেন। এরই মধ্যে বোল্ট রেস্টুরেন্টের ব্যবসা শুরু করেছেন। তার জ্যামাইকান ঘরানার রেস্টুরেন্টটির নাম ‘ট্র্যাক অ্যান্ড রেকর্ডস’। এর মূল শাখাটা হল ইংল্যান্ডে। আর বাকি তিনটি শাখা জ্যামাইকাতে।